ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মৃত্যুর আগে চল্লিশা করে আলোচনায় এসেছেন ৭০ বছর বয়সী কৃষক মো. মারফত আলী। গত সোমবার উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর গ্রামে ওই কৃষকের বাড়িতে এই আয়োজন করা হয়। এরপর থেকেই বেশ আলোচনায় এসেছেন মারফত আলী।
সাধারণত মৃত ব্যক্তির নামে তিন দিনের দিন কুলখানি এবং ৪০ দিনের দিন চল্লিশা উপলক্ষে ভোজনের আয়োজন করা হয়। কিন্তু মারফত আলী মৃত্যুর আগেই করলেন এই চল্লিশার আয়োজন।
এলাকাবাসী জানান, গেল সোমবার দুপুরে মারফত আলী তার বাড়ির উঠানে সামিয়ানা টানিয়ে চেয়ার-টেবিল পেতে আয়োজন করা হয়েছে ভোজের। গ্রামের প্রায় ৪০০ বাসিন্দাকে দাওয়াত করা হয়েছে। সবাই তৃপ্তির সাথে মারফত আলীর চল্লিশা খেয়েছেন। এ সময় খাবার পরিবেশন করেছে মারফত আলীর পরিবার ও বাড়ির লোকজন।
এ প্রসঙ্গে মারফত আলী বলেন, আল্লাহ আমাকে অনেক সুখে রাখছেন। মালিক আমাকে যে পরিমাণ ধনসম্পদ দিয়েছেন এতেই আমি সন্তুষ্ট। আমার দুই সংসারে রয়েছে ছয় সন্তান। কিন্তু মৃত্যুর পর আমার সন্তানরা যে গ্রামের মানুষকে দাওয়াত করে তৃপ্তি সহকারে খাওয়াবে তার কোনো গ্যারান্টি নেই। তাই আমি জীবিত থাকতেই এই আয়োজন করেছি।
তিনি আরও বলেন, আমি পায়ে হেঁটে গ্রামের সকল বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাওয়াত দিয়েছি। আমার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সকলেই আমার চল্লিশায় অংশগ্রহণ করেছে। এখন আমি মরেও শান্তি পাব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মারফত আলীর ছেলে সুজন মিয়া (৩২) জানান, আব্বার ইচ্ছা ছিল তিনি মৃত্যুর আগে চল্লিশা করবেন। তাই আব্বার ইচ্ছা পূরণে আমরাও সম্মতি দিয়ে অনুষ্ঠানটি করেছি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় মসজিদের ইমাম মওলানা আবুল কাশেম জানান, মারা যাওয়ার পর চল্লিশার আয়োজন এভাবে করার কোনো নিয়ম নেই। গরিব ও অসহায়দের আপ্যায়ন করা যেতে পারে। কিন্তু জীবিত থেকে ব্যাপক দাওয়াত দিয়ে যে কাণ্ড মারফত আলী করেছেন তা সম্পূর্ণ ইসলাম পরিপন্থী।