আত্মহত্যার চিরকুট লিখে আত্মগোপনে ছাত্রী, অতঃপর...

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তুরাগ নদীপাড়ে জুতা ও আত্মহত্যার একটি চিরকুট লিখে আত্মগোপনে ছিলন এক কলেজছাত্রী। তার পরিবার, পুলিশ ও ডুবুরি দল তাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হলে ৩৭ ঘণ্টা পর আজ বুধবার (৩ জুলাই) সকালে হঠাৎ নিজেই তার বাড়িতে এসে উঠে। উপজেলার কালিয়াদহ এলাকায় এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

কালিয়াকৈর উপজেলার কালিয়াদহ এলাকার সোহরাব সিকদারের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার। সে এবার গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।

জানা গেছে, সুমাইয়া গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার কালিয়াদহ এলাকায় বাড়ির পাশে তুরাগ নদীপাড়ে তার জুতা ও আত্মহত্যার একটি চিরকুট লিখে আত্মগোপনে যায়। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘তোমরা যেমন সন্তান চাইছো, ঐ রকম সন্তান হইতে পারি নাই। আমি তোমাগো ইজ্জত রক্ষা করতে পারলাম না। পারলে মাফ কইরো। আমি ভেতর থেকে শেষ। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। নদীর পানিতে হয়তো পাইবা আমারে। ভালো থাইকো, মাফ কইরা দিও।’

এমন চিরকুট লিখে সুমাইয়া নিখোঁজ হওয়ায় তুরাগ নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে এমন সন্দেহ হলে ওইদিন রাতেই কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ও টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একদল ডুবুরি পরের দিন গত মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই নদীতে উদ্ধার কাজ চালিয়েও তার খোঁজ পায়নি ডুবুরি দল।

খবর পেয়ে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শরিফা আক্তার, স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম  ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়াও ওই গ্রামসহ আশপাশের এলাকার উৎসুক জনতা তুরাগ নদীর পাড়ে ভীড় জমায়।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুমাইয়া তার বাড়িতে চলে আসে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে তার নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) প্রত্যাহার করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম জানান, সকালে নিজেই বাড়ি এলে তার পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে থানায় গিয়ে জিডি প্রত্যাহার করেন।