শুরুটা হয়েছিল গত কোপা আমেরিকা দিয়ে। ফ্রাঙ্কো আরমানি করোনা আক্রান্ত হওয়ায় সেই আসরে আর্জেন্টিনার গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্ব পান এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। সেমিফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে দলের জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন। তবু যেন কোথাও একটু ঘাটতি রয়ে গিয়েছিল। সেই ঘাটতি পূরণ হয়ে যায় কাতার বিশ্বকাপে। আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করে পাদপ্রদীপের আলোয় চলে আসেন এমি মার্তিনেজ।
‘বাজপাখি’ খ্যাত এই গোলকিপারের সবশেষ কারিশমা দেখা গেল চলতি কোপার কোয়ার্টার ফাইনালে। আর্জেন্টিনার জয়ে ফের টাইব্রেকারের হিরো মার্তিনেজ। ইতোমধ্যেই ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে, অ্যাস্টন ভিলার এই তারকাই কি টাইব্রেকারে সর্বকালের সেরা গোলকিপার? অনেকের কাছে এটা বাড়াবাড়ি মনে হলেও মার্তিনেজের অতিমানবীয় পারফর্মেন্স দেখে তা উড়িয়ে দেওয়ার উপায় নেই।
২০২১ কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে কলম্বিয়ার তিনটি স্পট কিক ফিরিয়েছিলেন এমি। আর্জেন্টিনা জিতেছিল ৩-২ ব্যবধানে। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লিওনেল মেসির দল। পরের বছর কাতার বিশ্বকাপে এমি দেখান তার ম্যাজিক। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের জয়ে তিনিই নায়ক। আর ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে সেই এমি হয়ে ওঠেন ‘বাজপাখি’। আর্জেন্টিনার ৪-২ গোলের জয়ে টাইব্রেকারে একটি শট ফিরিয়ে দেন এই গোলকিপার। অন্যটি পোস্টের বাইরে দিয়ে উড়ে যায়।
জাতীয় দলের হয়ে পরপর দুই আসরে দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে এমিই হয়ে ওঠেন স্কালোনির এক নম্বর পছন্দ। এরপর তার ক্লাব অ্যাস্টন ভিলাকেও টাইব্রেকারে জিতিয়েছেন এমি। ইউরোপা কনফারেন্স কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে লিলের বিপক্ষে অ্যাস্টন ভিলার ৪-৩ গোলের জয়ে তিনি দুটি শট ফিরিয়ে দেন। এরপর মার্তিনেজ তার কারিশমা দেখালেন চলতি কোপা ্আমেরিকায় ইকুয়েডরের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির মূল সময় ১-১ সমতায় শেষ হয়। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। অধিনায়ক লিওনেল মেসি দলের হয়ে প্রথম স্পট কিক মিস করলে শঙ্কা জাগে। কিন্তু পরপর দুটি স্পটকিক ঠেকিয়ে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফের রক্ষা করেন ‘দিবু’ খ্যাত মার্তিনেজ। ইকুয়েডরের হয়ে শট দুটি নিয়েছিলেন অ্যাঞ্জেল মেনা ও অ্যালান মিন্দা। ৪-২ গোলের জয় নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির দল।
সব মিলিয়ে জাতীয় দলের হয়ে মোট ২৪টি পেনাল্টি শ্যুটআউটের মুখোমুখি হয়েছেন মার্তিনেজ। এর মাঝে ১২টি গোল হয়েছে, ৯টি তিনি ফিরিয়েছেন। বাকি দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে আর একটি লেগেছে গোলবারে। অর্থাৎ, টাইব্রেকারে মার্তিনেজের সাফল্যের হার ৫০ শতাংশ! পরপর তিনটি মেজর টুর্নামেন্টে একটি করে ম্যাচে টাইব্রেকারে জয় পাওয়ার কীর্তি আছে পর্তুগালের রিকার্ডোর। তিনি ২০০৩ সালে উয়েফা কাপের শেষ আট, ২০০৪ সালে ইউরোয় শেষ আট এবং ২০০৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে দলকে টাইব্রেকারে জেতান।
পেনাল্টি শ্যুটআউটে ইতালির কিংবদন্তি গোলকিপার জিয়ানলুইজি বুফনও কম যান না। কিন্তু পেনাল্টি ঠেকালেও দল না জেতায় তিনি লড়াইয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। ২০০৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে টাইব্রেকারে দুই শট ফেরালেও মিলানের কাছে হেরে যায় জুভেন্তাস। ২০০৮ ইউরোর কোয়ার্টারে স্পেনের বিপক্ষে বুফন একটি শট ফেরালেও তার দল হারে। এরপর ২০১২ ইউরোর কোয়ার্টারে তিনি দলকে জিতিয়েছিলেন। তবে ২০১৬’র ইউরোর কোয়ার্টারে শট ফিরিয়েও দলকে জেতাতে পারেননি।