গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের আওতাধীন নগর স্বাস্থ্যসেবায় দুর্নীতির অভিযোগে প্রকল্পের ১১ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নগর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার টাকা ও নার্সদের বেতন আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত ৩০ জুন তাদের বরখাস্ত করা হয়। মহানগরী এলাকায় এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম প্রগতি সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান ও পরিবার পরিকল্পনা সংস্থার (পিএসকেপি অ্যান্ড পিপিএস) নিয়ন্ত্রণে চলে আসছিল।
বরখাস্তরা হলেন নগর স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প ব্যবস্থাপক ডা. বৃষ্টি কর্মকার, এমআইএস অ্যান্ড আইটি অফিসার মাহবুব আলম, ফ্যামিলি প্ল্যানিং কো-অর্ডিনেটর ডা. ফৌজিয়া সুলতানা, গাইনি বিশেষজ্ঞ নাজমা আক্তার, মেসেঞ্জার কাম সিকিউরিটি গার্ড মো. হুমায়ূন ও বাইজিদ মিঞা, ফিল্ড সুপারভাইজার তাহমিনা আক্তার ওরফে সুমি, সার্ভিস প্রমোটর জুলেখা বেগম, ল্যাব টেকনিশিয়ান নাফিজা ইসলাম ওরফে নিপা এবং নার্স প্রতিভা বাগচি ও রোকসানা বেগম।
প্রগতি সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান ও পরিবার পরিকল্পনা সংস্থার (পিএসকেপি অ্যান্ড পিপিএস) প্রেসিডেন্ট নাসরিন হোসেনের গত ২৭ জুন স্বাক্ষরিত এক অব্যাহতিপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
অব্যাহতিপত্রে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্প-দ্বিতীয় পর্যায়’ শীষর্ক প্রকল্পের আওতায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্ম এলাকায় ডা. বৃষ্টি কর্মকার নিয়োজিত। তার বিরুদ্ধে বিবিধ অর্থনৈতিক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নগর মাতৃসদনের ল্যাব, সিজারিয়ান ডেলিভারি, আল্ট্রাসনো ও নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৩-এর আল্ট্রাসনোর রেভিনিউ থেকে প্রতি মাসে টাকা সরানো। স্টাফদের টেনিং দিয়ে টাকা নেওয়া। জন্মনিবন্ধনের জন্য যে সার্ভিস নেওয়া হয় সেখান থেকে টাকা আত্মসাৎ। চুক্তিভিত্তিক যে ডাক্তার ও নার্স নেওয়া হয় তাদের বেতন উঠিয়ে পরিশোধ না করা। সময়মতো এবং নিয়মিত অফিস না করা। স্টাফদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও পক্ষপাতমূলক আচরণ। নগর মাতৃসদনে ভুয়া রেড কার্ড তৈরি করা। বিভিন্ন খাত থেকে বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করার কারণে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
চাকরিচ্যুতদের বিষয়ে অব্যাহতিপত্রে আরও বলা হয়, ‘তাদের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চাকরিতে বহাল রাখার পরিকল্পনা থাকলেও গত ২৪ জুন প্রকল্প অফিসে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর কারণে ৩০ জুন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। পুনরায় কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পিএসকেপি অ্যান্ড পিপিএসের অডিট টিমের রিপোর্ট অনুসারে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া ডা. বৃষ্টি কর্মকারকে যথাযথভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। মহানগরীর বড়বাড়ী নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সাবেক ফিন্ড সুপারভাইজার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অব্যাহতি দেওয়া এ কর্মকর্তাদের অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ করায় আমাদের সাতজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। আমাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।
সেই দুই তদন্ত কমিটিও আমাদের সাতজনের বিরুদ্ধে কোনো দোষ পায়নি। তাই আমাদের পুনর্বহাল করার দাবি জানাচ্ছি। এবার সত্যিকারের দোষীদের সাজা দেওয়া হয়েছে।’
ওই সাতজন হলেন মহানগরীর বড়বাড়ী নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফিন্ড সুপারভাইজার সাখাওয়াত হোসেন, একই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেসেঞ্জার কাম গার্ড আব্দুল বারী, সালনা নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ল্যাব টেকনোলজিস্ট সোহেল রানা, একই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সার্ভিস প্রমোটর মিঠু রোজারিও, কাশিমপুর মোজারমিল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট রিনা আরা খানম, কোনাবাড়ী নগর মাতৃসদন আয়া কেন্দ্রের ঝর্ণা বেগম ও একই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেসেঞ্জার কাম গার্ড আবুল হোসেন।
নগর স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনায় অনিয়মের বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) এএসএম সফিউল আজম বলেন, ‘নগর স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পটি একটি এনজিওর মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। সেখানে তারাই জনবল নিয়োগ করে। তারাই তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এতে সিটি করপোরেশনের কোনো দায় নেই।’