সদ্য প্রয়াত ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও নাট্যনির্মাতা মনির হোসেন জীবনকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করল দেশের নাট্যাঙ্গন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক স্মরণসভায় শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানানো হয়। এ সময় দোয়া মাহফিলও অনুষ্ঠিত হয়।
ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশের সভাপতি অনন্ত হিরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম কামরুজ্জামান সাগর।
সভাপতির বক্তব্যে অনন্ত হিরা জানান, জীবন ভাই ও তার পরিবারের জন্য কি করা যায় এ বিষয়ে ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশ এর কার্যনির্বাহী পরিষদ আলোচনা করে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিব।
মনির হোসেন জীবনের বড় মেয়ে মায়মুনা জীবন একান্ত বলেন, বাবার মৃত্যুর সময় আমি পাশে থাকতে পারিনি, টাঙ্গাইল ছিলাম। বাবা থাকা অবস্থায় বলতে পারিনি তাকে কতটা ভালবাসি। বাবা যে নাই এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না।
চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও নাট্য প্রযোজক শবনম পারভিন বলেন, জীবনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেকদিনের। আমার প্রযোজনার প্রথম নাটক জীবনের পরিচালনায়। এরপরে তার সঙ্গে অনেক কাজ হয়েছে। তার মূল্যায়ন হয়নি সেভাবে।
অভিনয়শিল্পী ডি এ তায়েব বলেন, জীবন ভাই আমার গুরু। আমার প্রতি উনার ভালবাসা ছিল। আমাদের জীবন ভাইয়ের পরিবারের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে, সে দায়িত্ব নিতে হবে। উনি কাজের মধ্যে আজীবন বেঁচে থাকবেন।
কনফেডারেশনের সভাপতি সাদেক সিদ্দিকী বলেন, মৃত্যুর স্বাদ সবাইকে নিতে হবে। কিন্তু কিছু মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। মনির হোসেন জীবন এমনই একজন মানুষ। সংগঠনের প্লতি অনুরোধ তার পরিবারের প্রতি সুদৃষ্টি দেবেন।
কনফেডারেশনের মহাসচিব ও বাংলাদেশ টিভি মিডিয়া প্রোডাকশন ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি আবু জাফর অপু বলেন, মনির ভাইয়ের কাজের অভিজ্ঞতা মধুর। তিনি কখনোই প্রডাকশনের কাউকে তুই বলেননি। তার মৃত্যুতে আমরা ব্যথিত।
শুটিং লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও কনফেডারেশনের সাংগঠনিক সচিব মো. সালাম চৌধুরী বলেন, জীবন ভাইয়ের সঙ্গে অনেক কাজ হয়েছে। তার মৃত্যৃ অপ্রত্যাশিত।
নির্মাতা নজরুল কোরেশী বলেন, তার সঙ্গে ১৯৯৪ সালে হুমায়ুন আহমেদের নাটকে সেটে পরিচয়। তার সঙ্গে সম্পর্ক সবসময় মধুর ছিল।
ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মনির হোসেন জীবন তার কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন।
ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী সদস্য সৈয়দ আওলাদ বলেন, জীবন ভাইয়ের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল নাটক। এমনকি কখনও কখনও তা পরিবার ছাপিয়ে যেত। পরিবারের জন্য যা করার প্রয়োজন তা করব।
নাট্যনির্মাতা শাওন আশরাফ বলেন, জীবন ভাইকে নিয়ে আমার অনেক স্মৃতি। আমাদের পক্ষ থেকে যা করার সব করব।
এছাড়া প্রয়াত মনির হোসেন জীবনের স্ত্রী মাহমুদা জীবন শিল্পী, মেজ মেয়ে মালিহা জীবন দিগন্ত, ছোট মেয়ে মারজানা জীবন পূর্ণতা, ভাগ্নে কামরুল ইসলাম খোকন, ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ নূর—ই—আলম, শুটিং ইউনিট মাইক্রোবাস চালক সমিতি সভাপতি ও কনফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আনোয়ার হোসেন খান, শুটিং লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও কনফেডারেশনের সাংগঠনিক সচিব মো. সালাম চৌধুরী, ফিল্ম এন্ড মিডিয়া লাইটম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও কনফেডারেশনের অর্থসচিব ইব্রাহিম শাহরিয়ার, শুটিং হাউজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও কনফেডারেশনের উপদেষ্টা আবদুল আলিমসহ নাট্যনির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও সাংবাদিকবরা স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।