বালুভর্তি এক লরির সঙ্গে সিএনজির সংঘর্ষের পর বাবার মরদেহের পাশেই পড়েছিল অজ্ঞান শিশুপুত্রের হাতকাটা শরীর। তারা ওই সিএনজির যাত্রী ছিল বলে জানা যায়।
শনিবার (৬ জুলাই) বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুরে কাওরাইদ ইউনিয়নের জৈনাবাজার আঞ্চলিক সড়কের চৌধুরীঘাট এলাকার সোনাব গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সিএনজি চালক মোস্তুফা কালামও (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছে।
নিহত ওই ব্যক্তির নাম মফিজু্ল ইসলাম (৩০)। তিনি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। আহত মফিজুলের শিশুপুত্র মাহিদ আহম্মেদ (৭)। নিহত মফিজুল পাশের ধামলই গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার বিকেলে একটা সিএনজি জৈনাবাজার থেকে কাওরাইদ বাজারের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে বালুভর্তি একটি লরি আসছিল। সোনাব চৌধুরীঘাট এলাকায় আসতেই সিএনজিটি একটি বনবিড়ালকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতির লরির মুখমোখি হয়। এতে সিএনজি ও লরির সংঘর্ষ হয়। সিএনজিটি দুমড়েমুচড়ে যায়। সিএনজিতে থাকা মফিজুল চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার শিশুপুত্র ছিটকে সড়কে পড়ে তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত চালক ও জ্ঞান হারানো শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়। এ ঘটনায় বনবিড়ালটিও মারা গেছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, মফিজুল তার ছেলেকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়ানো শেষে ফেরার সময় এ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।
কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য আবদুস সামাদ বলেন, পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশর মরদেহ উদ্ধার করেছে। একজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। শিশুসহ গুরুতর আহত দুজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া সিএনজি ও লরি পুলিশ জব্দ করেছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।