কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে আজ মুখোমুখি ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে। খেলাটি হবে লাস ভেগাসে। এই দুই দল মুখোমুখি হলেই ফিরে ফিরে আসে ৭৪ বছর আগের সেই স্মৃতি। ব্রাজিলের কাছে যেটা দুঃস্বপ্ন, উরুগুয়ের কাছে সেটাই সাফল্যের শেষ সোনালি পালক।
প্রায় পৌনে এক শতাব্দী পরেও, পাঁচটা বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার পরও মারাকানার সেই দুঃখ ভোলেনি ব্রাজিলিয়ানরা। ১৯৫০ এর বিশ্বকাপ, স্বাগতিক ব্রাজিলের কোটি মানুষের হৃদয় ভেঙ্গে অ্যালসিডেস ঘিঘিয়ার সেই গোল। মারাকানার সেই ফাইনাল ব্রাজিল এবং উরুগুয়ের জন্য আসলে ইতিহাসের এক বাঁকবদলের মুহূর্ত।
১৯৫০ এর বিশ্বকাপ জেতার পর আর কখনো ফাইনালে উঠতে পারেনি উরুগুয়ে আর হৃদয় ভাঙ্গার শোককে শক্তিতে পরিণত করে ব্রাজিল হয়ে উঠল অপ্রতিরোধ্য। ১৯৫০ থেকে ২০০২, মারাকানার সেই হারের পরের অর্ধেকটা শতাব্দীতে ব্রাজিল ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারেনি ফিফা। যুদ্ধ শেষে দ্রুত বিশ্বকাপ আয়োজনের তাগাদা অনুভব করেছিল ফুটবলের শীর্ষ সংস্থা। ১৯৪৯ সালে চতুর্থ বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু আয়োজকের অভাবে সেটা হয়নি। অবশেষে ব্রাজিল সাড়া দেয়। কিন্তু স্বাগতিকরা খুব কাছে গিয়েও হাতছাড়া করে শিরোপা। ওই হারের ব্যথা এখনও বুকে বয়ে বেড়ায় ব্রাজিলিয়ানরা, যা পরিচিত মারাকানা ট্র্যাজেডি নামে। চার দলের চূড়ান্ত পর্বের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে উরুগুয়ে ২-১ গোলে হারায় ব্রাজিলকে।
এটাই একমাত্র আসর, যেখানে এক ম্যাচের ফাইনাল খেলা হয়নি। শুরুতে ১৬ দল নিয়ে খেলা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারত, স্কটল্যান্ড ও তুরস্ক নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ১৩ দল নিয়ে শুরু হয় প্রতিযোগিতা।
চার দলের চূড়ান্ত পর্বে প্রথম দুই ম্যাচে জিতেছিল ব্রাজিল, আর একটি করে জয় ও ড্র নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল উরুগুয়ে। তাই রিও ডি জেনেইরোতে শেষ দিন যখন তারা মুখোমুখি হয়েছিল, তখন সেটা মর্যাদা পেয়েছিল ‘অলিখিত’ ফাইনালের। ওই ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় প্রথম বিশ্বকাপের বিজয়ী উরুগুয়ে। ১১ মিনিট বাকি থাকতে ঘিগিয়ার লক্ষ্যভেদী শটে মারাকানায় উপস্থিত হাজার হাজার ব্রাজিলিয়ানের হৃদয়ে শুরু হয় রক্তক্ষরণ।
সেই ম্যাচের পর কেটে গেছে ৭৪ বছর। সেই ম্যাচের দর্শকদের অধিকাংশরাও বেঁচে নেই। তবুও ব্রাজিল আর উরুগুয়ে যখন মুখোমুখি হয়, তখন ফিরে আসে সেই ম্যাচ।