যেভাবে খুন হন ঢাকা কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী জোবায়ের

রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী থানাধীন ঢাকা কমার্স কলেজে সহপাঠীর হাতে খুন হওয়া শিক্ষার্থী জোবায়ের হাসান রাফিতের (১৮) মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি দুপুরে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সহপাঠী রাজিন চৌধুরী ও তার বাবা ইকবাল চৌধুরী মিলে জোবায়েরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তোভোগীর পরিবার।

মর্গে জোবায়েরের মামা নুরুজ্জামান বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থী জুবায়ের কলেজের ক্লাসে ক্যাপ্টেন ছিল। গত এক মাস আগে ক্লাসে এক শিক্ষার্থীর সাথে তাদেরই সহপাঠী রাজিনের মারামারি হয়। এতে রাজিনের বিরোধীতা করে জোবায়ের। ক্ষিপ্ত হয়ে রাজিন ক্লাসের মধ্যে জুবায়েরের উপর চড়াও হয়। তখন জুবায়ের কলেজের প্রিন্সপালের কাছে নালিশ করেন।

তিনি আরও বলেন, কলেজের প্রিন্সিপাল রাজিনের বাবা-মাকে তলব করেন এবং বাবা মা’র সামনে রাজিনকে সতর্ক করে দেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই ক্ষোভ থেকেই রাজিন ও তার বাবা দুজন মিলে কৌশলে জুবায়েরকে তাদের বাসায় নিয়ে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। তবে তাদের গ্রেপ্তার করলে আসল বিষয় বেরিয়ে আসবে।

তিনি বলেন, জানতে পেরেছি রাজিনের বাবা ইকবাল চৌধুরী একজন আইনজীবী আর মা ঝিনাইদহের একটি কলেজের শিক্ষিকা।

নুরুজ্জামান বলেন, তাদের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। তার বাবা আবুল বাশার ভূমি অফিসে চাকরি করেন আর মা আয়েশা সিদ্দিকা রুমী গৃহিনী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে জোবায়ের ছিল সবার বড়। ঢাকায় মিরপুর-১ নম্বর রাইনখোলা এ-ব্লকে মামা নুরুজ্জামানের বাসায় থাকতো সে। ওই বাসা থেকে মিরপুর কমার্স কলেজে আসা যাওয়া করতো। কলেজটির বিজ্ঞান বিভাগে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সে।

তিনি বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় কলেজ বন্ধ ছিল। কিন্তু কোচিং খোলা ছিল। গতকাল শনিবার বেলা ১২টার দিকে দুইটি বিষয়ে কোচিং করতে বাসা থেকে বের হয়। প্রথম কোচিংটি শেষ করলেও পরেরটিতে আর যায় না সে। এমনকি বাসাতেও আসে না। জোবায়ের মোবাইল ব্যবহার না করায় যোগাযোগ করতে পারছিলেন না তারা। তবে এলাকায় খোঁজাখুজি শুরু করেন তারা। সবশেষ রাতে তাদের কলেজের এক শিক্ষকের মাধ্যমে জুবায়েরের মৃত্যুর সংবাদ পান তারা।

জোবায়েরের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন শাহআলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আমিনুল ইসলাম চৌধুরী। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের কয়েকটি কাটা যখম রয়েছে। এছাড়া ডান চোখের পাশে কাটা, গলায় ৩ ইঞ্চি পরিমাণ কাটা যখম, বুকের ডান পাশে কাটা যখম আছে। ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন।

সুরতহাল প্রতিবেদনে প্রাথমিক তদন্ত হিসেবে উল্লেখ করেন, সহপাঠীদের সাথে দ্বন্দ্বের জেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি দুপুরে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহটি বুঝে নেন তার মামা মামা নুরুজ্জামান। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে।