রোগীদের অপ্রয়োজনীয় টেস্ট ও অস্ত্রোপচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক। তিনি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় টেস্ট থেকে কমিশন আদায়, অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের ওষুধ ফার্মেসিতে বিক্রি করে দেওয়াসহ চিকিৎসায় নানা অনৈতিক কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
গতকাল রবিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল ইথিক্স ও লিগ্যাল ইস্যুজ নিয়ে এক সেমিনারে উপাচার্য এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, রোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক করতে হবে। প্রথম রোগী থেকে শেষ রোগী পর্যন্ত সমান ও যথাযথ সময় দিতে হবে। গোপনীয় বিষয় রক্ষা করাসহ রোগীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বাস অর্জন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে এটি মøান হয়ে গেছে। তাই রোগীদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে গুরুত্ব দিতে হবে। কখনোই রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা যাবে না। চিকিৎসাবিজ্ঞান, চিকিৎসাসেবা এবং চিকিৎসকদের জন্য মেডিকেল ইথিক্স ও লিগ্যাল ইস্যুজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত ধারণা থাকা আবশ্যক।
এ সময় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে উপাচার্য বলেন, ‘বর্তমানে কোনো কোনো চিকিৎসক রোগীদের অপ্রয়োজনীয় টেস্ট দেন। এই টেস্টের পরীক্ষা মূল্য থেকে একটা কমিশন পান। এটা যেন না হয়। আমি আমার চল্লিশ বছরের চিকিৎসা পেশায় কোনো দিন রোগীদের অপ্রয়োজনীয় টেস্ট দিইনি। টেস্টের বিনিময়ে কোনো ধরনের কমিশন নেওয়ার তো প্রশ্নই উঠে না।’
উপাচার্য আরও বলেন, কোনো কোনো সার্জন প্রয়োজন ছাড়াই রোগীদের অপারেশন করেন। এটাও বন্ধ করতে হবে। অপারেশন থিয়েটারে অপ্রয়োজনে অনেক ওষুধ লেখা হয়, পরে সেসব ওষুধ ফার্মেসিতে বিক্রি করা হয়। অপ্রয়োজনে অনেক সার্জিক্যাল আইটেম রোগীর স্বজনকে দিয়ে কেনা হয় এবং পরে সেগুলোও বিক্রি করা হয়। এসব পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
উপাচার্য আরও অভিযোগ করেন, ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি, হৃদরোগের চিকিৎসায় হার্টে রিং পরানো নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো চিকিৎসক রোগীদের অপ্রয়োজনীয় দামি ওষুধ দিয়ে থাকেন, যাকে মানুষ ‘ডিব্বা প্র্যাকটিস’ বলে থাকে। এ ধরনের ‘ডিব্বা প্র্যাকটিস’ দমন করা হবে।
চিকিৎসায় অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার ব্যাপারে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন উপাচার্য। তিনি বলেন, বর্তমানে সংক্ষুব্ধ রোগীরা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিএমডিসি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এমনকি আদালতেও অভিযোগ করছেন। একজন অভিযুক্ত চিকিৎসককে চারদিক থেকে আক্রমণ করা হয়। কিন্তু এ ধরনের প্রায় সব বিষয়ই শুধু বিএমডিসির মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওএসবি) ইথিক্স অ্যান্ড প্রোফেশনালিজম সাব-কমিটির উদ্যোগে এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসএমএমইউয়ের সাবেক ডিন ও বিএমডিসির ইসি মেম্বার অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান ও ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ডা. সায়েদুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ওএসবি সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন।