বগুড়ায় রথযাত্রায় হতাহতের ঘটনায় দুই তদন্ত কমিটি

বগুড়ায় রথযাত্রায় রথের চূড়ার সঙ্গে ১১ হাজার কেভি বিদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে ৫ জন মৃত্যুর ঘটনায় রবিবার রাতে কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এদিকে বগুড়া জেলা প্রশাসন থেকে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ১০ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পাদন করার কথাও বলা হয়েছে। রবিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বগুড়া শহরের সেউজগাড়ি আমতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহতরা হলেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল গ্রামের মৃত সুদেব এর মেয়ে শ্রীমতি রঞ্জিতা (৬০), আদমদিঘী উপজেলার কুন্ডু গ্রামের মৃত ভবানী মহন্তের ছেলে শ্রী নরেশ মহন্ত (৬০), সদর উপজেলার তিনমাথা রেলগেটের লঙ্কেশ্বরের স্ত্রী আতসী রানী (৪০), শিবগঞ্জ উপজেলার কুলুপাড়া গ্রামের মৃত নরেন্দ্র কুমারের ছেলে অলক কুমার (৪২), সারিয়াকান্দি উপজেলার বাসুদেব সাহার স্ত্রী জলী রানী সাহা (৩৫)। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে মোট ৪২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, রবিবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে রথযাত্রা শুরুর পর সাতমাথার দিকে রওনা হয়। পথিমধ্যে সেউজগাড়ী আমতলা মোড়ে রথটি পৌঁছলে সেখানে বৈদ্যুতিক মেইন লাইনের সঙ্গে রথের স্টিলের গম্বুজের স্পর্শ লাগে। এতে রথের চূড়ায় আগুন লেগে যায় এবং প্রচন্ড ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া রথের উপরে এবং পাশে ভক্তরা লাফ দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করে। পরে সেখানে কমপক্ষে প্রায় ৫০ জন আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে সরকারি দুইটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারজন এবং মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহতরা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে বগুড়ায় রথযাত্রায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হতাহতের ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তদন্ত কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। রবিবার (৭ জুলাই) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অপরদিকে বগুড়ায় রথযাত্রার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসন ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিএস ইমরুল কায়েসকে আহ্বায়ক করে পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, নেসকো, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে তদন্ত কমিটিকে।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, দুর্ঘটনা আহতদের মধ্যে আইসিইউতে থাকা ২ জনকে রবিবার রাতে ঢাকায় পাঠোনো হয়েছে। শজিমেক হাসপাতালে এখনও ৩৮ জন চিকিৎসাধীন আছে। বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতলে ৫ জন ভর্তি ছিল। তার মধ্যে একজন মারা গেছেন।