গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের (মানি লন্ডারিং) অভিযোগে নোবেল বিজয়ী ও প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে থাকা এ মামলা বাতিল চেয়ে আজ সোমবার ড. ইউনূসের পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি করা হয়। কার্য তালিকায় এলে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চে এর ওপর শুনানি হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
ড. ইউনূসের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন হাইকোর্টে আবেদনের যুক্তিতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৪০৯ ধারা দিয়ে আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কেউ তো টাকা জমা রাখেনি যে আত্মসাৎ হবে। আর প্রতারণার অর্থ হচ্ছে কাউকে প্ররোচিত করা এবং তার কাছ থেকে আদায় করা। এখানে তো প্ররোচিত হয়ে কেউ কিছু দেয়নি। অর্থ পাচারের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ঠিক নয়। শ্রম আইনের ২৩৪ ধারায় হিসাব খোলার কথা বলা আছে। হিসাব খোলার পর শ্রমিকদের ৫ শতাংশ হিসেবে ৪৩৭ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। তাই এখানে অর্থপাচারের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিস্তারিত আমরা শুনানিতে বলব।’
দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা মামলার পুরো কার্যক্রম বাতিল চেয়েছেন। দুদক আইনি লড়াইয়ে জন্য প্রস্তুত। কেন এ মামলা বাতিল করা যাবে না, শুনানিতে সে যুক্তি তুলে ধরব।’
গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৩ এর ৩০ মে ড. ইউনূসসহ প্রতিষ্ঠানটির ১২ জনের নামে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলার অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়ার পর গত ২৯ জানুয়ারি ড. ইউনূসসহ প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
গত ৩ মার্চ আত্মসমর্পণ করে জামিন পান ড. ইউনূসসহ অপর আসামিরা। গত ১২ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত- ৪ আসামিদের বিরুদ্ধে দÐবিধির ৪০৯/ ৪২০/ ৪৬৭/ ৪৬৮/ ৪৭১/ ১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। আগামী ১৫ জুলাই এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টে এ আবেদনটি করা হলো।