খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আজগর আলী তারা বিশ্বাসকে আটক করা হয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আজ সোমবার (৮ জুলাই) নগরীর রায়ের মহলের মোস্তফার মোড় এলাকায় বিশ্বাস প্রোপার্টিজের অফিস থেকে তাকে আটক করা হয়। বিশ্বাস প্রোপার্টিজ অফিসে কর্মরত একাধিক কর্মচারী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে পুলিশ তার আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের পর দুদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোনো ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি।
ডুমুরিয়া থানার পুলিশ জানায়, নিহত ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবির স্ত্রী শায়লা ইরিন বাদী হয়ে গত রবিবার রাতে ৫/৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ডুমুরিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর রায়ের মহলের মোস্তফার মোড় এলাকায় বিশ্বাস প্রোপার্টিজের অফিসে অভিযান চালায়। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আজগর আলী (তারা বিশ্বাস) বিশ্বাসকে আটক করে। আটকের পর তাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে তারা বিশ্বাসের আটকের পর ডুমুরিয়া থানা পুলিশ দীর্ঘ তিন ঘণ্টা তারা বিশ্বাসের মালিকানাধীন বিশ্বাস প্রোপার্টিজের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে একটি শটগান, একটি খেলনা পিস্তল, একটি রিভলবার সদৃশ লাইটার, ৫৭ রাউন্ড কার্তজ ও ৯ রাউন্ড কার্তুজের খোসা জব্দ করেছে।
এ ব্যাপারে খুলনা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের ক্লু সম্পর্কিত কোনো তথ্য আমার জানা নেই। তবে তথ্য উদঘাটনের জোর চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে পরে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাত পৌঁনে ১০টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ওয়াপদার মোড় নামকস্থানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে শরাফপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ রবিউল ইসলাম রবি (৪৬) নিহত হন। ওই দিন তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী নারায়ণচন্দ্র চন্দের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সন্ধ্যায় তিনি ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের শহিদ জোবায়েদ আলী মিলনায়তনে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা শেষে মোটরসাইকেলে একা খুলনার বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। রাত পৌঁনে ১০টার দিকে তিনি খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের গুটুদিয়া ওয়াপদার মোড় নামকস্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে পেছন দিক থেকে বেশ কয়েকটি গুলি করে পালিয়ে যায়। এ সময় তার পিঠে ৫টি গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তার ওপর লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রাত সোয়া ১০টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।