সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আদালতে গিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
আজ সোমবার (৮ জুলাই) বিকেলে সংবাদমাধ্যমকে এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা একজন আইনজীবী রেখে আদালতে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন। আদালত তাদের বক্তব্য শুনে ন্যায্য রায় দেবেন।
সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করে। সেখানে বলা হয়েছিল, ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেড (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওই পদসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো। যেখানে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ, উপজাতি ৫ ও প্রতিবন্ধীর ১ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়।
এই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে উচ্চ আদালত। সে রুল যথাযথ (এ্যাবসিলিউট) ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে গত ৫ জুন রায় দেয় হাইকোর্ট বিভাগ। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র পক্ষ আবেদন করলে ৪ জুলাই পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্নাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার কোর্ট। গত ৪ জুলাই বিষয়টি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য আসে। তবে ওইদিন রিটের পক্ষের জেষ্ঠ্য আইনজীবী না থাকায় তার পক্ষে সময় চাইলে সর্বোচ্চ আদালত শুনানি ‘নট টুডে’র আদেশ দেন।