নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের চার যুবককে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর কথা বলে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় নিয়ে টর্চার সেলে এক বছর আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৭৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে সম্প্রতি তারা দেশে ফিরেছেন। পরে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় মানব পাচার আইনে মামলা করা হলেও প্রধান আসামিসহ অন্যরা এখনো অধরা।
ভুক্তভোগীরা হলেন আড়াইহাজারের পাঁচরুখী এলাকার মোবারক হোসেন মোল্লার ছেলে হাসিবুল হোসেন, একই এলাকার কাউসারের ছেলে হানিফ, স্বপনের ছেলে আবদুল আহাদ ও শামীমের ছেলে সাকিব।
এই চারজনের একজন হাসিবুল হোসাইনের বাবা মোবারক মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে হাসিবুলসহ চারজনকে অস্ট্রেলিয়া নেওয়ার কথা বলে ঢাকার মিরপুরের একটি বাসায় তাদের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে গত বছরের ২৬ মে চারজনকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। তাদের ভারতের চেন্নাই নিয়ে গিয়ে একটি টর্চার সেলে আটক রেখে নির্যাতন করে এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। কিছুদিন পর সেখান থেকে চার যুবককে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হয়। সেখানে আরেক টর্চার সেলে আটকে নির্যাতন করা হয়। দ্বিতীয় দফায়ও তাদের কাছ থেকে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয়। এভাবে মোট ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় মানব পাচার চক্রটি। এরপর চলতি বছরের মে মাসের শুরুর দিকে শ্রীলঙ্কার পুলিশের সহায়তায় ভুক্তভোগীরা দেশে ফিরতে সক্ষম হন। ১৬ মে ভুক্তভোগী হাসিবুলের বাবা মোবারক হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন; যা আদালতের নির্দেশে আড়াইহাজার থানায় নথিভুক্ত করা হয়। এতে চক্রের হোতা মল্লিক রেজাউল হক সেলিম, তার স্ত্রী বিউটি, মেয়ে সুচি এবং ভুলতা গাউছিয়া এলাকার ইকবালসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। এদের সবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুই মাসেও প্রধান আসামি সেলিমসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আড়াইহাজার থানার এসআই রিপন বলেন, ‘মামলা গ্রহণের পর একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রধান আসামিসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
আর আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘আমরা মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’