পিতৃত্বকালীন ছুটি কেন নয় প্রশ্ন হাইকোর্টের

সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পিতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করতে নীতিমালা করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে নাÑ জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়।

চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, সংসদবিষয়ক সচিব, নারী ও শিশুবিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, শ্রম সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলেছে আদালত।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।

পিতৃত্বকালীন ছুটির নির্দেশনা চেয়ে গত ৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান ও তার সন্তান নুবাইদ বিন সাদী হাইকোর্টে এ আবেদনটি করেন। শিশুটির পক্ষে তার বাবা সরকারি কর্মকর্তা শেখ সাদী রহমান রিট আবেদনের হলফনামায় স্বাক্ষর করেন।

রিট আবেদনের যুক্তিতে আইনজীবী তখন বলেন, নবজাতক জন্ম নিলে সন্তানের দেখভালে কর্মজীবী নারীদের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছুটি এখন ছয় মাস করে। নবজাতকের যত্ন ও দেখভালে শুধু তার মা মুখ্য ভূমিকা পালন করেন এমন ধারণার পরিবর্তন হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সন্তানের বাবার ভূমিকাও কম নয়। কেননা নবজাতকের জন্মের পর শিশু এবং তার মায়ের ব্যাপক পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।

এ সময় সন্তানের বাবার সাহচর্য প্রয়োজন হয়। এখনকার সময়ে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের হার বেড়েছে। এ সময়ে নবজাতকের মায়ের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা জরুরি। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও দেশে নবজাতক সন্তানের বাবাদের সে সুযোগ নেই। আবেদনে বলা হয়, পৃথিবীর ৭৮টি দেশে পিতৃত্বকালীন ছুটির বিধান রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে তা নেই।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রিটকারী আইনজীবীর গ্রাউন্ড (যুক্তি) ছিল যে, সন্তানের যখন জন্ম হয় তখন মায়ের পাশাপাশি বাবার ভূমিকাও অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে মায়েদের মাতৃত্বকালীন ছুটি থাকলেও বাবাদের ক্ষেত্রে সেটি নেই। আদালত পিতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়ে রুল দিয়েছেন।’