নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় জামাইকে ফাঁসাতে গিয়ে মেয়েকে লুকিয়ে রাখেন শ্বশুর। এরপর গুমের নাটক সাজিয়ে মামলা করেন তিনি। এ ঘটনায় লুকিয়ে রাখা মেয়েকে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) রাতে উদ্ধার করে পিবিআই। পরে মেয়ের স্বীকারোক্তি পাওয়ার পর শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা করেন জমাই বিদ্যা মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের চন্দলাড়া গ্রামের আ. খালেকের মেয়ে লিয়া আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে বিদ্যা মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ৫ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সাংসারিক জীবনে তাদের মধ্যে নানা ঝামেলা চলছিল। গত ১৮ এপ্রিল স্ত্রী লিয়া আক্তার (২৭) নিখোঁজ হন।
পিবিআই নেত্রকোণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুর কবির বলেন, ‘লিয়া আক্তারের নিখোঁজের ঘটনায় তার বাবা আ. খালেক বাদি হয়ে মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুমের অভিযোগ তোলেন। পরে গত ২৩ এপ্রিল আদালতে মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত মামলাটির ভার নেত্রকোণা পিবিআইকে দিলে সংস্থাটি তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়—এটি সাজানো মামলা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরপর অভিযান চালিয়ে লিয়া আক্তারকে ঢাকার তুরাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে লিয়ার স্বীকারোক্তি অনুসারে হয়রানির অভিযোগ এনে তার স্বামী বিদ্যা মিয়া শ্বশুরকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, বিদ্যা মিয়ার শাশুড়ি রোকেয়া আক্তার (৫৭) ও খালা শাশুড়ি আঙ্গুরা (৫০)। এখন তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’