সাভারের নবীনগরের আলমাজ হোসেন। গতকাল ইস্কাটন রোডের অকুনোভা আই হাসপাতালে ষাটোর্ধ মায়ের চোখের ছানি অপারেশন করান। অসুস্থ মাকে নিয়ে সাভারে যাওয়ার জন্য সিএনজি খোঁজে রিক্সা নিয়ে বাংলামোটরে আসেন। মোড়ে আসতেই কোটাবিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রিক্সার গতিরোধ করেন। পরে আলমাজ প্রেসক্রিপশন দেখালে তারা ছেড়ে দেন।
বাংলামোটর মোড় পার হয়ে সিএনজি খোঁজ করতে থাকেন আলমাজ। বেশ কয়েকটি সিএনজি থাকলেও কেউ সাভার যেতে রাজি হয়নি। অসুস্থ মাকে নিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি। পরে এক সিএনজি চালককে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে অনেক অনুরোধের পর ৫০০ টাকায় যেতে রাজি করান।
এসময় আলমাজ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক। তবে দূর থেকে আমার মতো রাজধানীতে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েছে। কারণ শিক্ষার্থী আন্দোলনের কারণে বাস চলাচল বন্ধ। তাই আমরা গন্তব্যে যেতে পারছি না। এদিকে অনেক সিএনজি চালক আন্দোলনকে ঘিরে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন।’
রাজধানীর বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেট ঘুরে দেখা গেছে, কোটাবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তা অবরোধ করেছেন। এখন পর্যন্ত কোথাও সহিসংতার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তা অবরোধের কারণে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। এতে সবথেকে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। শিক্ষার্থীরা মোড় অবরোধ করলেও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সংক্রান্ত গাড়িগুলো ছেড়ে দিচ্ছেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের বাইরে যেসব রোগী সিএনজি বা মোটরসাইকেলে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছেন তখনি তাদের জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন দেখছেন, তারপর তাদের ছেড়ে দিচ্ছেন। তাই রোগীর স্বজনদের আগে থেকেই হাতে প্রেসক্রিপশন রাখতে দেখা গেছে। যাতে শিক্ষার্থীদের জবাবদিহির মুখে পড়তে না হয়। এদিকে আন্দোলনের সময় যত বাড়ছে ততই ভোগান্তি বাড়ছে রাজধানীবাসীর।
রাজধানীর ভিকারুননিসা নুন স্কুল ও কলেজ থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে কাঁঠালবাগান যাচ্ছিলেন রহমতুল্লাহ। বাংলামোটর মোড় আসার পর শিক্ষার্থীরা মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানান জানিয়ে সন্তানের কষ্ট হচ্ছে বলে ছেড়ে দিতে বলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাকে কিছুক্ষণ দাঁড়াতে বলেন।
এসময় তার সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি নিজেও কোটা বাতিল চাই। কারণ এটা ন্যায্য আন্দোলন। তবে আজ মাধ্যমিকের ষান্মাসিক পরীক্ষা থাকায় বাধ্য হয়েই বের হতে হয়েছে। মেয়ের পরীক্ষা শেষ হওয়ায় নিতে এসে এখন বিপাকে পড়েছি। সরকার চাইলেই শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান করতে পারে। নয়তো আন্দোলনের দিনে পরীক্ষা বন্ধ রাখতে পারে। এতে আমাদের ভোগান্তি কম হবে।’
জানা গেছে, সরকারি চাকরিতে সকল গ্রেডে ‘অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’ কোটা বাতিল করে এক দফা দাবি আদায়ে সকাল-সন্ধ্যা বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১০ জুলাই) সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র ব্যানারে বাংলা ব্লকেডের অংশ হিসেবে সারাদেশে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঢাকার শাহবাগ, চানখারপুল, সায়েন্সল্যাব, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট মোড়, আড়ারগাঁও এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকার সড়ক অবরোধ করেন ঢাকা কলেজ ও এর আশপাশের প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ অবরোধ করলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বাস, প্রাইভেটকার, রিকশাসহসব ধরনের পরিবহন আটকে দিলেও অ্যাম্বুলেন্সগুলো ছেড়ে দিচ্ছেন।