নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা এলাকায় জঙ্গিগোষ্ঠী আনসার আল ইসলামের আস্তানায় অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া মো. জাভেদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। গত মঙ্গলবার রাতে গাজীপুরের টঙ্গীর পূর্ব থানাধীন স্টেশন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জাভেদ নেত্রকোনায় ‘আনসার আল ইসলাম’র প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সেখানে বোমা তৈরি করতে শেখেন বলে এটিইউ জানিয়েছে।
জাভেদকে রূপগঞ্জের ওই জঙ্গি আস্তানার প্রধান উল্লেখ করে এটিইউ জানায়, তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ। তিনি আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য।
৩ জুলাই রূপগঞ্জের বরপা এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি চারতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিনটি শক্তিশালী আইডি বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের আগেই ওই আস্তানা থেকে পালিয়ে যান জাভেদ এবং তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় প্রধান আসামি জাভেদ।
গতকাল বুধবার রাজধানীর বারিধারায় এটিইউ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাভেদকে আটকের বিষয়টি জানান এটিইউর পুলিশ সুপার (অপারেশনস) মো. ছানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, গত ৯ জুন নেত্রকোনা মডেল থানার কাইলাটি ইউনিয়নের বাসাপাড়া গ্রামের স্থানীয় একটি খামারবাড়ি ভাড়া নিয়ে মৎস্য খামার পরিচালনার অন্তরালে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের একটি বড় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সন্ধান পায় এটিইউ। গত ৩০ জুন কক্সবাজার সদর থানা এলাকা থেকে ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নারী সমন্বয়কারী পারভীন আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার বরপা এলাকার একটি বাসায় জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে তথ্য দেন পারভীন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে বরপা এলাকার বাসাটি শনাক্ত করা হয়। এটিইউ কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন আরও বলেন, বরপা এলাকায় জাভেদের বাসায় সংগঠনের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে অবস্থান এবং গোপন বৈঠকসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তারা একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রথম শ্রেণির সদস্য হওয়ায় তাদের স্ত্রীরাও তাদের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত।