সরকারি চাকরিতে যৌক্তিকভাবে কোটা সংস্কারের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল সর্বোচ্চ আদালত কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে স্থিতাবস্থা দিলেও কর্মসূচি চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। সকল গ্রেডে যৌক্তিকভাবে ন্যূনতম কোটা রেখে সংস্কারের এক দফা এক দাবিতে পহেলা জুলাই থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
এ সপ্তাহে দুইদিন শিক্ষার্থীরা সড়ক ও রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার মতো কর্মসূচি পালন করেছেন, যার নাম দিয়েছেন তারা 'বাংলা ব্লকেড'। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবারও পুরো দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি পালন করবেন শিক্ষার্থীরা। গত কয়েকদিন বিভিন্ন সড়ক আটকে আন্দোলন করায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তাই আজ আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডের ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ড. খ মহিদ উদ্দিন বলেন, কোটা নিয়ে বুধবার (১০ জুলাই) আদালত একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। সে প্রেক্ষিতে আর কোটা নিয়ে আন্দোলনের কোনো অবকাশ নেই। এরপরও যদি আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগসৃষ্টি করা হয় তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।
ড. খ মহিদ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে হাইকোর্ট একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। হাইকোর্ট চার সপ্তাহের জন্য স্থিতিবস্থার আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আজ থেকে শিক্ষার্থীদের আর জনদুর্ভোগ করার কোনো অবকাশ আছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ মনে করে না।
তিনি আরও বলেন, যারা আন্দোলন করছেন তাদের প্রতি পুলিশের অবশ্যই ভালোবাসা, সহমর্মিতা আছে। কিন্তু সেই সঙ্গে মনে রাখতে হবে দেশের প্রচলিত আইন ও দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে আমরা বাধ্য। সেই জায়গা থেকে যেহেতু শিক্ষার্থীরা শিক্ষিত, সেহেতু ডিএমপির পক্ষ থেকে আমি বিনীত অনুরোধ করছি তারা যেন মানুষের কোনো দুর্ভোগ দিয়ে কর্মসূচি না দেয়৷
মহিদ উদ্দিন বলেন, গত ১০ দিন ধরে শাহবাগ, সায়েন্সল্যাবসহ ঢাকার শহরের বিভিন্ন জায়গায় মানুষের গাড়ি, চলাফেরা ব্যাহত হয়েছে। ডিএমপির পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয়েছে মানুষ যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারে৷ পুলিশ সকলের অধিকারের বিষয়ে যেমন শ্রদ্ধাশীল সেই সঙ্গে মহানগরবাসীর নিরাপত্তায় ও গমনাগমনের জন্য পুলিশ প্রাণান্ত চেষ্টা করে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে যে আন্দোলন চলে আসছিল সেটি ৬ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় তারা অবস্থান নেয়। পুলিশ অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে এবং ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেছে, বলেন তিনি।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, দেশে এখন এইচএসসি পরীক্ষা চলমান। গত ৭ জুলাই রথযাত্রা হয়েছে। প্রচণ্ড এক প্রেশার পুলিশ নিয়েছে। সামনে আশুরা ও উল্টো রথযাত্রা রয়েছে। তাই আমরা আশা করি, আমাদের আবেদন এবং সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের পক্ষেই রয়েছে। তাই পরবর্তী কর্মসূচির কোনো যৌক্তিকতা নেই৷ শিক্ষার্থীদের প্রতি সহযোগিতা এবং ভালোবাসা অব্যাহত থাকবে।
আজকেও শিক্ষার্থীরা ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে আন্দোলন করার ঘোষণা দিয়েছে। পুলিশ কী ব্যবস্থা নেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে জানতে চাইলে ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, সর্বোচ্চ আদালত থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা শিক্ষার্থীদের পক্ষে রয়েছে। কাজেই আন্দোলন যদি যৌক্তিকতা না থাকে তবে আন্দোলনে আসা উচিত নয়। আন্দোলন না করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ রইল।
এরপরেও যদি নির্দেশনা না মেনে আন্দোলন করে তাহলে পুলিশের পক্ষ থেকে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ গত ১০ দিনে পুলিশের কোনো সদস্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করেননি যাতে করে পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন। আমি বিশ্বাস করি শিক্ষার্থীরা সেই সম্মানটুকু রাখবেন বলে জানান তিনি।