গত কয়েকদিন ধরে সংবাদ শিরোনামে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার আড়িয়াদহের ত্রাস জয়ন্ত সিং। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। দুধবিক্রেতা থেকে মাত্র পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে আড়িয়াদহের ‘ডন’ হয়েছেন তিনি। সরকারি জমি দখল করে তৈরি করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি। কীভাবে রাতারাতি বদলে যায় জয়ন্তর জীবন?
আড়িয়াদহের মৌসুমী মোড় থেকে কিছুটা এগোলে প্রতাপ রুদ্র লেন। সেখানে দুটি বাড়ি জয়ন্তর। একটা পুরনো বাড়ি, যেখানে চলছে ঘাটাল। নতুন যে বিশাল বাড়ি তা হয়েছে সরকারি জমির উপর। কয়েকবছর আগেও নাকি সেখানে খেলত এলাকার শিশুরা। খবর সংবাদ প্রতিদিনের।
শোনা যাচ্ছে, জয়ন্তর এই প্রভাবের নেপথ্যে এক প্রোমোটার আছেন। তার হাত ধরেই শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন জয়ন্ত। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকা নিজের দখলে নেন। চাঁদাবাজি, হুমকি, খুনের চেষ্টা, মারধর, কী অভিযোগ নেই তার বিরুদ্ধে। কিন্তু জয়ন্তের বিরুদ্ধে যাওয়ার দুঃসাহস দেখানোর ক্ষমতা ছিল না এলাকার কারো। এমনকী মতবিরোধ হলে জয়ন্তর হাত থেকে বাঁচতেন না তার দলের লোকরাও।
জানা গেছে, এলাকায় কেউ জমি কিনলেও মোটা টাকা দিতে হত জয়ন্তকে। আইন-আদালত কোনো কিছুর পরোয়া করতেন না তিনি। ফলে নিজের মতো সাম্রাজ্য তৈরি করছিলেন। বিহার থেকে ছেলেদের নিয়ে আসতেন কাজে লাগানোর জন্য।
শাসকদলের একাংশের দাবি, মদন মিত্রের আশপাশে দেখা যেত জয়ন্তকে। যদিও এ বিষয়ে কামারহাটির এমএলএ বলেন, ‘আমি কামারহাটির সব কিছুর সভাপতি। জয়ন্তর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। ওরা কেউ শাসকদলের ছায়ায় ছিল না। এ বিষয়ে সৌগত রায়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টা দেখছে।’