সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে মন্ত্রিসভার সব সদস্যকে বরখাস্ত করলেন কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) তিনি এই ঘোষণা দেন। তবে ডেপুটি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এ সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হবে না। কারণ তিনি আইনত বরখাস্ত হতে পারেন না। সেই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিবও তার দায়িত্বে বহাল থাকবেন, যিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন। খবর বিবিসির।
প্রেসিডেন্ট বলেন, শুধু ডেপুটি প্রেসিডেন্ট রিগাথি গাচাগুয়া ও প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মুসালিয়া মুদাবাদী স্বপদে বহাল থাকবেন। সামগ্রিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপের পরও কেনিয়ার মানুষ বিশ্বাস করে এই প্রশাসন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাছাড়া আমার প্রতি কেনিয়ার মানুষের যে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে তা আমি জানি।
সম্প্রতি নতুন একটি আর্থিক বিলের বিরুদ্ধে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। এরপর দেশটিতে শুরু হয় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছে। গত মাসে কিছু বিক্ষোভকারী দেশটির পার্লামেন্টেও হামলা চালায়।
রুটো তার ভাষণে আরো বলেন, আমি অবিলম্বে বিভিন্ন সেক্টর এবং রাজনৈতিক সংগঠন ও অন্য সরকারি-বেসরকারি কেনীয়দের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শে নিযুক্ত হব, যাতে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠন করা যায়। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রধান সচিব ও অন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় সরকারের কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে। আমি যথাসময়ে অতিরিক্ত ব্যবস্থা ও পদক্ষেপের ঘোষণা দেব।’
গত সপ্তাহে রুটো প্রস্তাব করেছিলেন, প্রায় ২৭ লাখ মার্কিন ডলার বাজেটের ঘাটতি পূরণ করতে প্রায় সমান পরিমাণে ব্যয় হ্রাস ও অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া হবে। কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের কারণে এ ঘাটতি হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে রুটো বিভিন্ন সরকারি সংস্থাজুড়ে বেশ কয়েকটি কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছিলেন। জনরোষের পর তিনি তার মন্ত্রিপরিষদ ও সংসদ সদস্যদের জন্য প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি বন্ধের আদেশ দেন।
রুটো কেনীয়দের চাপের মধ্যে রয়েছেন, যারা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন এবং সরকারের কাছ থেকে আরো জবাবদিহির দাবি করছেন। যদিও তিনি বিতর্কিত কর বৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে রাজি হয়েছেন। তবে কিছু বিক্ষোভকারী প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছে।
দেশটিতে শেষবার সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এমওয়াই কিবাকি নতুন সংবিধানের ওপর গণভোটে হেরে যাওয়ার পরপরই তা করেছিলেন।