ভারী বর্ষণ, জলজটে খুলনায় ভোগান্তি

টানা তিন ঘণ্টার ভারী বর্ষণে খুলনায় তীব্র জলজটের সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নিম্নাঞ্চলে অনেক বসতঘরেও পানি প্রবেশ করেছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া ও নিম্নবিত্ত মানুষরা।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমী বায়ুর কারণে বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ও রাতেও ভারী সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগরীর খালিশপুর, মুজগুন্নি, বাস্তুহারা কলোনী, হাউজিং এলাকা, ফুলবাড়ী গেট, রেলিগেট, মহেশ্বরপাশা, দৌলতপুর, আলমনগর, নেভি চেকপোস্ট, ময়লাপোতা, রয়্যাল মোড়, টুটপাড়া জোড়া কল বাজার, মহির বাড়ির খালপাড়সহ অনেক এলাকায় সড়ক বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায়। অনেক সড়কে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে যায়।

নগরবাসীর অভিযোগ, অল্প বৃষ্টিতেই নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায় তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। গত কয়েক বছর ধরেই এমনটি দেখা যাচ্ছে। যেসব সড়কে উন্নয়ন কাজ চলছে সেসব সড়ক এলাকায় অতিরিক্ত দুর্ভোগে পড়ছে মানুষ।

তারা আরও জানান, মহানগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে অনেক সড়কে নতুন ড্রেন নির্মিত হয়েছে। তবে নতুন ড্রেনের ওপর কাভার দেওয়ার কারণে নগরবাসী খোলা ড্রেনে আর ময়লা ফেলতে পারছে না। কিন্তু ড্রেনের ভেতর পানির প্রবাহে বয়ে আসা পলিথিন, চিপসের প্যাকেটসহ অন্যান্য ময়লা-আবর্জনা জমে ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পলিথিনসহ নানারকম ময়লা-আবর্জনায় নালা-নর্দমার মুখগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বৃষ্টির সময় ড্রেন উপচে বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের পানি অপসারণ হতে সময় লাগছে।

নগরীর বয়রা এলাকার বাসিন্দা উত্তম পাল বলেন, সিটি করপোরেশন নিয়মিতভাবে ড্রেন পরিষ্কার করে না। দায়সাড়াভাবে ড্রেন পরিষ্কার করলে এই রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হবেই। পরিকল্পিত উপায়ে ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে এই জলাবদ্ধতা দূর করা যেত।

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রধান কনজারভেন্সি অফিসার আনিসুর রহমান বলেন, কেসিসির পক্ষ থেকে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করা হয়। তাছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে চলমান প্রকল্পগুলো ও খাল খননের কাজ শেষ হলে এই জলাবদ্ধতার সমস্যা আর থাকবে না।