প্রশ্নফাঁস চক্রে যেভাবে জড়িয়ে পড়েন সাখাওয়াত

প্রশ্ন ফাঁস চক্রে গ্রেপ্তারদের মধ্যে যারা স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম সাখাওয়াত হোসেন। ৩০ বছর বয়সী এই যুবক রাজধানীর পল্টনে পানির ফিল্টারের ব্যবসা করতেন। পরিবার নিয়ে মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে থাকেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সাখাওয়াত ও তার ছোট ভাই সাইম হোসেনসহ (২০) ১৭ জনকে আটক করে সিআইডি। পরে নিজের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন সাখাওয়াত।

তিনি আদালতকে বলেন, সাজেদুলের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। রেলওয়ে প্রকৌশলী পদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার দুদিন আগে সাজেদুল পল্টনে তাদের একটি গুদাম ব্যবহারের অনুমতি নেন। পরে সেখানে ৪০ থেকে ৪৫ জন চাকরিপ্রার্থীর থাকার ব্যবস্থা করেন। তাদের ওই কক্ষে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। 

তিনি আরও জানান, চুক্তিবদ্ধ শিক্ষার্থীরা যাতে প্রশ্নপত্র অন্য কাউকে দিতে না পারেন সেজন্য তাদের ফোন রেখে দেওয়া হয়েছিল। এর আগে সাজেদুল মাঝেই মাঝেই আসতেন সাখাওয়াতের কাছে। আলাপে আলাপে তার কাছে চাকরিপ্রত্যাশীদের সন্ধান চাইতেন। চাকরিপ্রত্যাশীদের এনে দিতে পারলে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার কথাও বলতেন।

এদিকে প্রশ্নফাঁস চক্রে যোগ দিয়ে হঠাৎ সম্পদের মালিক বনে যাওয়ায় অবাক তাঁর এলাকার মানুষও। যদিও সাখাওয়াতের আয়ের উৎস জানতেন না তাঁরা। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সদস ইউনিয়নের ইচাইল মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাখাওয়াত। 

গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, প্রাথমিকের গণ্ডি পার হতে পারেননি সাখাওয়াত। মাদরাসায় কয়েক মাস পড়েছেন। প্রায় ১২ বছর আগে গ্রামের বাড়িতে ওয়াটার ফিল্টারের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। তবে তাতে সুবিধা করতে না পেরে স্কুলপড়ুয়া ছোট ভাই সায়েমকে নিয়ে ঢাকা চলে যান সাখাওয়াত। সেখানে স্যানিটারি কাজ ও ওয়াটার ফিল্টারের ব্যবসা শুরু করেন। সাধারণ মানুষের মতোই চলাফেরা করতেন গ্রামে। কিন্তু তিন বছর যাবৎ হঠাৎ ঠাটবাট বেড়ে যায় দুই ভাইয়ের। প্রাইভেট কার নিয়ে বাড়ি আসতেন, চলাফেরায় ‘টাকার গরম’ দেখাতেন।

প্রসঙ্গত, প্রশ্নফাঁসের খবর সামনে আসলে পিএসসির সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) অধীনে হওয়া বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করত চক্রটি। এরে পিএসসির সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ অর্ধশত মানুষের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে তদন্তকারীরা।