কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বে নতুন জোট সরকার নেপালে!

নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহল আস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার পর নতুন সরকার গঠনের পথ খুলেছে দেশটিতে। ফলে, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বে নেপালে নতুন জোট সরকার গঠন হতে যাচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার দেশটির পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে যান প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহল। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

এর মধ্য দিয়ে নেপালে ২০ মাস ধরে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন হলে সেটি হবে ২০০৮ সালের পর দেশটিতে গঠন করা ১৪তম গণতান্ত্রিক সরকার। কারণ ২০০৮ সালে নেপালে ২৩৯ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্রের অবসানের পর থেকেই চলছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা।

কে পি শর্মা অলি ২০১৫-২০১৬ এবং ২০১৮-২০২১ পর্যন্ত দুবার নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। গত জুনের শেষের দিকে তিনি মধ্যপন্থী দল নেপালি কংগ্রেসের (এনসি) সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। এর ফলে পার্লামেন্টে এই জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথ সুগম হয়। তখন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, কে পি শর্মা অলি নতুন সরকার গড়বেন।

তবে গতকাল পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে পুষ্পকমল দহল হেরে যাওয়ার পর কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বে নতুন জোট সরকার কবে নাগাদ দায়িত্ব নেবে, সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহলের সরকারের ওপর থেকে গত সপ্তাহে সমর্থন তুলে নেয় অন্যতম বৃহত্তম জোটসঙ্গী লিবারেল কমিউনিস্ট ইউনিফায়েড মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্ট (ইউএমএল) পার্টি। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন কে পি শর্মা অলি।

এরপর ৬৯ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহলের সামনে দুটি বিকল্প খোলা ছিল—হয় তাঁকে সরকারপ্রধানের পদ ছাড়তে হবে, নতুবা পার্লামেন্টে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। তবে দ্বিতীয় বিকল্প বেছে নিয়ে পার্লামেন্টেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হন তিনি।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে সাবেক মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহলের ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টে ন্যূনতম ১৩৮টি ভোট দরকার ছিল। তাঁদের মধ্যে পুষ্পকমল দহলের পক্ষে ভোট দেন মাত্র ৬৩ জন। আর বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৯৪টি।

অন্যদিকে নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দেশটির দুই বড় প্রতিবেশী চীন এবং ভারত। হিমালয়ঘেঁষা নেপালে এই দুই দেশের বড় বিনিয়োগ রয়েছে।