চতুর্থবার মেয়াদ বাড়ল দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের। প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়কাল ছিল ২০২০ থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। ওই সময় কাজের অগ্রগতি ছিল ৫০ শতাংশ। করোনাসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারায় সংশোধন করে দ্বিতীয়বার প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরে তৃতীয়বার ২০২৪ সালে ৩০ জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। সবশেষে চতুর্থবার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশোধিত সূচি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২৫ জুন প্রকল্পের কাজ আরও এক বছর বাড়ানো হলো। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে উত্তরাঞ্চলের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত জ্বালানি তেল সরবরাহের সুবিধা পাবে। নির্মাণাধীন তিনটি প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনাল (আরটি), নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৭ কিলোমিটার পাইপলাইনের নির্মাণাধীন ডেসপাস প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনাল (ডিটি) ও পাঁচটি এসভি (সেকশনাইজিং ভাল্ব) স্টেশন আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন তিনটি প্রকল্পের কাজের সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে পরিদর্শনে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান (সচিব) মো. আমিন উল আহসান।
বিপিসির চেয়ারম্যান (সচিব) বলেন, ভারতের নুমালী গড় থেকে পাইপলাইনে পার্বতীপুরে রিসিপ্ট টার্মিনাল পরিপূর্ণ অটোমেশনে তেল সরবরাহের কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ ও পরিমাপ করা হচ্ছে। অটোমেশন পদ্ধতি চালু হলে তেল সরবরাহে সিস্টেম লস বন্ধ হবে ও সম্পূর্ণ যান্ত্রিক উপায়ে স্বয়ংক্রিভাবে জ্বালানি তেলের পরিমাপ ও হিসাব সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে বিদেশ থেকে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর হয়ে ট্যাংকলরি কিংবা ট্রেনে করে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিবহন খাতে ব্যয় বেড়ে যায়। অটোমেশন চালু হলে ভারত থেকে পাইপলাইনে জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি খরচ ব্যারেলপ্রতি ৪ থেকে ৫ ডলার সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তেলের সরবরাহ পাওয়া সম্ভব হবে। এসব বিবেচনা করে সেচ মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার জ্বালানি তেলের চাহিদা নিশ্চিত করতে পার্বতীপুরে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সৈয়দপুরে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক ১০০ হাজার টন ডিজেল এই পাইপলাইন প্রকল্প থেকে সরবরাহ করা হবে।
বিপিসি সূত্রে জানা যায়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৩১ দশমিক ৫ কিলোমিটার ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন স্থাপনের জন্য ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০২০ সালে মার্চে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে ১২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে। বাকি ৫ কিলোমিটার ভারত অংশে। প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ৩০৩ কোটি টাকা ও বাংলাদেশ সরকারের বিপিসি ২১৭ কোটি টাকা সরবরাহ করবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়কাল ছিল ২০২০ থেকে ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরে ২০২৪ সালে জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। সবশেষে প্রকল্পের বাস্তবায়নে সংশোধিত সূচি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২৫ জুন প্রকল্পের কাজ আরও এক বছর বাড়ানো হলো। বিপিসির চেয়ারম্যান (সচিব) মো. আমিন উল আহসান পরিদর্শনকালে এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বতীপুর ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের পিডি টিপু সুলতান, বিপিসির যুগ্ম সচিব কবীর মাহমুদ, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন, যমুনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দীন আনছারী, পদ্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুর রহমান ও পার্বতীপুর রেল হেড ডিপো ইনচার্জ (পদ্মা) মো. আখের আলী, দিনাজপুর জেলা পেট্রোল পাম্প ও জ্বালানি তেল পরিবেশক মালিক গ্রুপের সিনিয়র সহসভাপতি এ জেড এম মেনহাজুল হক, সাধারণ সম্পাদক এটিএম হাবিবুর রহমান ও সহসাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. রজব আলী সরকার প্রমুখ।
পরে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন রিপ্লেস ট্যাংকলরি টার্মিনাল স্থাপন কাজের অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন প্রধান কার্যালয়ের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুল হক ভূঁইয়াসহ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান পেট্রোবাংলার নিজস্ব অর্থায়নে রিপ্লেস ট্যাংকলরি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য এক একর জায়গা, অফিস, বিশ্রামাগার, ক্যান্টিন, টয়লেটসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থার জন্য রেলের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে আগে এই টার্মিনালে ৮০ থেকে ট্যাংকলরি ছিল। জমি অধিগ্রহণের কারণে এখন সেখানে ১৮০ থেকে ২০০টি ট্যাংকলরি রাখা যাবে।