সিপিবি থেকে সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খানের পদত্যাগ

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান। গত ৩ জুলাই দলটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবার পদত্যাগ পত্র দেন তিনি।

আজ রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই তথ্য জানান।

পদত্যাগ পত্রে মনজুরুল আহসান খান বলেন, আমি দীর্ঘদিন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য এবং জীবিত কমরেডদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সময় ধরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আছি। আমার বিরুদ্ধে সাত বার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ বার অভিযোগ পাওয়ার পর আমি সে সম্পর্কে তদন্ত করতে বলেছিলাম। আপনারা তদন্ত না করেই চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি লুটপাটতন্ত্র, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প' গড়ার জন্য, কংগ্রেসে গৃহীত সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের থেকে বিচ্যুত হয়ে বিশ্বাসঘাতকতামূলক ভাবে সুবিধাবাদী সংস্কারবাদী লাইন অনুসরণ করে চলেজ পার্টি পরিচালনার ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক-কেন্দ্রীকতার নীতি অগ্রাহ্য করে গায়ের জোরে, আধিপত্যবাদী কায়দায়' ও 'হুকুমধারীর রেজিমেন্টেশনের পদ্ধতিতে পার্টি চালাচ্ছেন। এমতাবস্তায় আমি পার্টি থেকে পদত্যাগ করছি।

তিনি বলেন, পার্টির সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে যে বিপুল অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি, সাফল্য অর্জন করেছি এবং তার সাথে সাথে মার্কসবাদী দর্শনের যে মর্মবাদ আত্মস্থ করেছি তা আমার জীবন পথের পাথেয় হয়ে থাকবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস পার্টির অন্যান্য কমরেড যারা এখনও বিপ্লবী আদর্শের প্রতি অবিচল তারা পার্টিকে সঠিক পথে নিয়ে আসবে এবং বিশ্বাসঘাতকদের পার্টি থেকে চিরতরে বহিষ্কার করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তার সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে। গত ১২ ও ১৩ জুলাই সিপিবির কেন্দ্রিয় কমিটির মিটিং হয়েছিল সেখানে তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে ২০২১ সালে একটি দৈনিক পত্রিকায় লিখিত প্রবন্ধে ও আরেকটি দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকার দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। সে সময় বর্তমান সরকার সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দলের দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ছয় মাসের জন্য উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দলটি।

এরপর চলতি বছর একটি দৈনিকে সাক্ষাৎকার দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। সেখানে সিপিবির বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান নেতৃত্ব অতীতেও কোনো আন্দোলন করেনি, বর্তমানেও করে না। তাদের কর্মসূচি খুবই কম। কর্মসূচি ডেকে কোনো লোকই জমায়েত করতে পারে না। শিগগিরই আমরা সম্মেলন করে বর্তমান নেতৃত্বকে সরিয়ে দেব।

মনজুরুল আহসান খানের এমন বক্তব্যর পর দলের ভেতরে ও বাইরে আবার আলোচনা শুরু হয়। এরপর দলটি উপদেষ্টার পদ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেয়। এ ছাড়া তার সদস্য পদ ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। দলটির অভিযোগ শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় তার সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে।