রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প থেকে বাংলাদেশে অনেক নাটক টেলিফিল্ম তৈরি হলেও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র খুব বেশি হয়নি। এবার মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেন নির্মাণ করলেন
রবীন্দ্রনাথের ‘হৈমন্তী’ ছোটগল্প অবলম্বনে ‘হৈমন্তীর ইতিকথা’ চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রের সংলাপ ও চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক নিজেই। চলচ্চিত্রটি মুক্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৬ জুলাই।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হৈমন্তী’ ছোটগল্পটি দীর্ঘসময় ধরে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত থাকায় দেশের শিক্ষিত মানুষ মাত্রেই এই গল্প সম্পর্কে জানেন। এই গল্পে যেমন উঠে এসেছে যৌতুক প্রথার ভয়াবহ রূপ, একজন নবীন গৃহবধূর নিষ্ঠুর নির্মম মানসিক যন্ত্রণার উপাখ্যান, তেমনি উঠে আসে একটি পরিণত বয়সের স্বামী-স্ত্রী যুগলের যাপিত জীবনের কামনা বাসনা প্রেম রোমাঞ্চের অনবদ্য কিছু মুহূর্ত। শত বছর আগের এই গল্পের পোশাক-পরিচ্ছদ এবং পরিবেশ তৈরি করে এই চলচ্চিত্রের চিত্রায়ণ ছিল বেশ জটিল। এ সবকিছুই নির্মাতাকে অত্যন্ত দক্ষতা ও সতর্কতার সঙ্গে আয়োজন করতে হয়েছে। ইতিমধ্যে চলচ্চিত্রটি লাভ করেছে আনকাট সেন্সর সনদপত্র। চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে সেন্সর বোর্ডের বিজ্ঞ সদস্যরা প্রশংসা করেছেন। আর বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে ছবিতে সংযোজিত রবীন্দ্রসংগীতগুলো।
এই চলচ্চিত্রের নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নবাগত চিত্রনায়িকা ঐশিকা ঐশি। অপু চরিত্র করেছেন চিত্রনায়ক সাইফ খান। অন্যান্য চরিত্র রূপায়ণ করেছেন ঝুনা চৌধুরী, রাশেদা চৌধুরী, খলিলুর রহমান কাদেরী, মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেন, মুনা আক্তার, অরূপ কু-ু, মো. আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, আনিছুর রহমান ও শিশুশিল্পী সিমন্তিনী চৌধুরীসহ প্রমুখ।
চলচ্চিত্রে সংযুক্ত কয়েকটি রবীন্দ্রসংগীতে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ড. অণিমা রায়, মামুন জাহিদ, শিমু দে ও জয়ন্ত আচার্য্য। সংগীতায়োজন করেছেন দীনবন্ধু দাশ, আবহ সংগীত করেছেন অমিত চ্যাটার্জি।
চলচ্চিত্র নির্মাতা মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেন ইতিপূর্বে নির্মাণ করেছেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হরিজন, ভাঙন, একজন মহান পিতা এবং অপুর বসন্ত-সহ প্রভৃতি জীবনমুখী চলচ্চিত্র।