সড়কের এক বছরের কাজ শেষ হয়নি আড়াই বছরেও। দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে অগ্রগতি মাত্র ৬০ শতাংশ। রয়েছে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগও। এর মধ্যেই জলাশয়ে ধসে পড়েছে পাঁচ জায়গা। তিন কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন খুলনার বালিয়াখালী বাজার-হামকুড়া-থুকড়া বাজার সড়কের চিত্র এটি; যা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়ার উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সংযোগ সৃষ্টি করেছে বালিয়াখালী বাজার-হামকুড়া-থুকড়া বাজার সড়ক। এই সড়ক ঘিরেই গড়ে উঠেছে খলিশী, মিকশীমিল, হামকুড়া, থুকড়া, বালিয়াখালী, টিপনাসহ অন্তত ২০টি গ্রাম। তারা যাতায়াতের একমাত্র এ সড়কটিই ব্যবহার করে। এ ছাড়া খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক থেকে ভেতর দিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করে খুলনা শহরেও যাওয়া যায়। তবে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কটি বেহাল হয়ে পড়ে। কৃষিপণ্য এবং মাছ পরিবহনসহ নিত্য চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়ে মানুষ।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, দুর্ভোগ লাঘবে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বালিয়াখালী বাজার-হামকুড়া-থুকড়া বাজার সড়কের ৪ হাজার মিটার উন্নয়নের উদ্যোগ নেয় খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। টেন্ডারে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৩ টাকা ব্যয়ের এই কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঝর্ণা অ্যান্ড আশরাফ (জেভি)। তবে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ। কার্যাদেশ পাওয়ায় তিনি কাজটি শুরু করেন ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর। এক বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর। নির্ধারিত মেয়াদে কাজ সমাপ্ত হয়নি। কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সবশেষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে মেয়াদ। তবে আড়াই বছরের অধিক সময়ে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৬০ শতাংশ। তৃতীয় চলতি বিল হিসেবে ঠিকাদার ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন।
সরেজমিন সড়কে গিয়ে দেখা যায়, খোয়া রোড রোলার দিয়ে সমান করা হয়েছে। তবে পুরো সড়কেই কার্পেটিং বাকি রয়েছে। এ ছাড়া বালিয়াখালী বাজার সন্নিকটে সড়কের পাঁচ জায়গা পাশের জলাশয়ে ধসে পড়েছে। ধসে বড় অংশের ইট ও খোয়াও জলাশয়ে চলে গেছে।
সড়কের পাশে বালিয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা শাহীন শেখ ও আফসার গাজী দেশ রূপান্তরকে বলেন, সড়ক পুনরায় নির্মাণে বিস্তর অনিয়ম হচ্ছে; বিশেষ করে নিম্নমানের খোয়া ও কাদামিশ্রিত বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়কের পাশের জলাশয়ে প্যালাসাইডিং করে মাটি ভরাট করা হয়নি; বরং সড়কের গোড়া থেকে মাটি কেটে ওপরের কিনারায় সরু করে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বড় অংশজুড়ে জলাশয়ে ধসে পড়ছে। তারা জানান, আগেও একবার ধসে পড়েছিল। সেটি ঠিকাদার ঠিক করে। এখন ফের পাঁচ জায়গায় সড়ক ধসে পড়েছে। ফলে মজবুত করে নির্মাণ না করলে এই সড়ক টেকসই হবে না।
টিপনা-বালিয়াখালী এলাকার ইউপি মেম্বার মো. মহসিন শেখ দেশ রূপান্তরকে জানান, কাজে বেশ অনিয়ম হচ্ছে। কাজের মান ভালো করতে ঠিকাদারের লোকজনকে অনুরোধ করা হয়েছে। এলাকার লোকজন প্রতিবাদও করেছে। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন কথা শোনেনি।
কাজ সম্পর্কে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, কাজটি পুরনো রেটে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের এখন নতুন রেটে কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ছাড়া দুই পাশে খাল ও মাছের ঘের থাকায় বালু ও খোয়া রাখার জায়গা পায়নি। সে কারণে ধীরগতিতে এগোচ্ছে। তারপরও ঠিকাদার কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে। ধসে পড়া সম্পর্কে চেয়ারম্যান বলেন, বৃষ্টির কারণে জলাশয়ে ধসে পড়েছে। এগুলো ঠিক না করা পর্যন্ত বিল পরিশোধ করা হবে না।
অনিয়ম সম্পর্কে এজাজ আহমেদ জানান, অনিয়মের খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে আসলেই অনিয়ম হচ্ছে না। কারণ সড়কটিতে আগে ইটের সলিং ছিল। ইটের সড়কে এখন কার্পেটিং হচ্ছে। সড়কের প্রচুর পুরনো ইট রয়েছে। এস্টিমেটেও সেই ইট ব্যবহারের কথা রয়েছে। সে কারণে বাইরে থেকে ইট আনার প্রয়োজন পড়েনি। আগের ইটই ব্যবহার করা হচ্ছে।