বাবাকে হত্যার দায়ে মেয়ের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে স্বামী হত্যার অভিযোগ তুলে নিজের ছোট মেয়েসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন মা ফারজানা আফরিন (৪১)। ঘটনার দুই সপ্তাহ পর নগরীর দৌলতপুর থানায় এ হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলার আসামি বাদীর নিজের ছোট মেয়ে।

আজ সোমবার নগরীর দৌলতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাবার হত্যাকারী অভিযোগে মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রবীর বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বাদী ফারজানা আরফিন মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, তার স্বামী শেখ হুমায়ুন কবিরকে ছোট মেয়ে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। মেয়ে এ ঘটনা তাদের কাছে স্বীকার করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

ফারজানা আরফিন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, গত ৩ জুলাই তিনি ও তার মেঝ মেয়ে হুমাইয়া বিনতে কবির বাসার বাইরে ছিলেন। তারা সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাসায় ফিরে প্লাস্টিকের জগে রাখা পানি পান করেন। এক পর্যায়ে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। অপরদিকে মসজিদ থেকে মাগরিবের নামাজ পড়ে বাসায় এসে ফ্লোরে রাখা খাবার খেয়ে নিজকক্ষে হুমায়ুন কবিরও ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে তার ছোট মেয়ে সুমাইয়া ভয় পেয়ে তার মাকে ডেকে নিয়ে এক সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। অপর একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন তার মেঝ মেয়ে হুমায়ারা। কিন্তু পরদিন সকালে (৪ জুলাই) হুমায়ুন কবিরের সাড়া না পেয়ে ফারজানা কাছে গিয়ে স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

তিনি বলেন, বাবা মেয়েকে শাসন করতো—তাই রাগে রাতের খাবার ও পানির সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে মেয়ে বাবা হুমায়ুন কবিরকে অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন মিলে হত্যা করেছে। তার (স্বামী) বাম হাতের বাহুতে দুটি ছিদ্র ও হাতে রক্ত ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি স্বামীর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য স্বামীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয়রা জানান, দৌলতপুরের দেয়ানা উত্তরপাড়ার হুমায়ুন কবিরের মৃত্যু নিয়ে গত ২/৩ ধরে নানা আলোচনা চলছিল। রবিবার দুই মেয়েসহ ফারজানা আরফিন থানায় হাজির হন। হত্যায় অভিযুক্ত মেয়ের আচরণ ছিল রহস্যজনক। এ কারণে পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে না চাইলেও পরে মামলা নিয়েছে।

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রবীব বিশ্বাস বলেন, শেখ হুমায়ুন কবিরকে হত্যার অভিযোগে থানায় একটি মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে মেয়ে হত্যার ঘটনা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে।