মৌলিক গল্পের দর্শক ধীরে বাড়ে

রকস্টারের জীবন কাহিনি নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘আজব কারখানা’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে পাঁচ বছর পর। এতে একজন সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলরুবা দোয়েল। সদ্য মুক্তি পাওয়া সিনেমা ও কাজের ব্যস্ততা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর

‘আজব কারখানা’য় দর্শক সাড়া

এই কাজটা শুরু করেছিলাম ২০১৯ সালে। এরপর কভিড চলে এলো এবং মাঝখানে আড়াইটা বছর নিয়ে গেল। এরপর ডাবিং, এডিটিং সবকিছু মিলিয়ে একটু সময় লাগল। দীর্ঘ একটা সময়ের পর সিনেমাটা রিলিজ হলো। এটা একজন শিল্পীর জন্য অবশ্যই আনন্দের। কারণ, আমরা অনেক কষ্ট করে একটা কাজ করি এবং কেমন হলো সেটা বোঝার জন্য কিন্তু সিনেমাটি রিলিজের অপেক্ষা করি।

রিলিজের দিনই প্রথম শো দেখা হয়েছে আমার। এর আগেও যখন ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রদর্শনী হয়েছে তখনো দেখেছিলাম। দর্শক প্রতিক্রিয়া যদি বলি, মৌলিক গল্প হিসেবে দর্শক প্রতিক্রিয়া বেশ ভালো। আমার ছবি বলে বলছি না, দেখলাম স্টুডেন্টরা দেখতে আসছে। এরকম গল্পভিত্তিক সিনেমাগুলো তো সব ধরনের দর্শক দেখেও না। আবার অনেক সময় দর্শকের কান পর্যন্ত পৌঁছায়ও না যে এরকম একটা ছবি হয়েছে। মৌলিক গল্পগুলোর দর্শক ধীরে ধীরে বাড়ে। তবে কিছু দর্শক তো অবশ্যই আছে কিন্তু তাদের পর্যন্ত না পৌঁছালে দেখবে কীভাবে! যেহেতু এটা একটা গানভিত্তিক সিনেমা, অনেকগুলো গান আছে তাও আবার হেলাল হাফিজের বিখ্যাত কবিতা থেকে গান, যারা উনার কবিতা পছন্দ করেন তারা তো দেখছেন। তারপর পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় দাদার ভক্ত আছেন অনেকে, তার জন্যও অনেকেই দেখছেন। একদমই যে দেখছেন না, তা নয়। তবে যারা দেখছেন প্রশংসা করছেন।

গল্পভিত্তিক সিনেমায় আমজনতার অনীহা

আমার কাছে মনে হয়, এ ধরনের ছবি ম্যাস অডিয়েন্স পর্যন্ত না পৌঁছানোর কারণ হতে পারে যারা এ ধরনের ছবিগুলোর সঙ্গে যুক্ত তারা খুব আত্মমুখী বা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া-কেন্দ্রিক মুভমেন্ট খুব কম।

সাংবাদিকের চরিত্রে চ্যালেঞ্জ এবং সাড়া

আমি তো খুব আতঙ্কে ছিলাম কিন্তু এখন পর্যন্ত যারাই দেখেছেন তারা ভালোই বলছেন। এমন চরিত্রে আগে কখনো কাজ করিনি। সেই জায়গায় একটা চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই ছিল। সেইসঙ্গে ভয়ও ছিল। কারণ, সিনেমাটির পরিচালক দীর্ঘ সময় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তার বাস্তব জীবনের চরিত্রটা তিনি আমাকে দিয়েছেন। এজন্য সবসময় ভয়ে থাকতাম উনার মতো হলো কি না! তবে এক্ষেত্রে উনার কাছ থেকে অনেকটুকু সাপোর্ট পেয়েছি। আরেকটা বিষয় আমাকে ভীষণভাবে হেল্প করেছে সেটা হচ্ছে আমার বোন যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী। আজ আমার এ পর্যন্ত আসার পেছনে তার অবদান অনেক অনেক বেশি। তার কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা, অনুপ্রেরণা পেয়েছি যেটা আমার অনেক বেশি কাজে দিয়েছে।

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। প্রথম দিকে আমি একটু ভয়ই পেয়েছি।

মনে হচ্ছিল যে, আমি আসলে পারব কি না, বা না জানি কতগুলা ঝাড়ি খাই! আমরা একটা শটও মনে হয় হবে না। এ রকম অনেক কিছুই ভাবনায় আসছিল। কারণ, যখন সিনেমাটির শুটিং করি তখন আমার ‘আলফা’, ‘চন্দ্রাবতী কথা’ সিনেমাগুলো রিলিজও হয়নি। শুধু মনে হচ্ছিল যে কাজ করে যাচ্ছি কিন্তু রিলিজ হচ্ছে না। যার কারণে এই চিন্তাগুলো মাথায় ছিল। পরমব্রত নাম শুনে যা মনে হয় কিংবা পর্দায় যেভাবে দেখে এসেছি আমরা, বাস্তবে দেখে মনে হলো একদমই ভিন্ন এক মানুষ। তিনি অনেক আগে থেকেই আমার ক্রাশ। কাজ করতে গিয়ে দেখি উনি অনেক বেশি কো-অপারেটিভ। শিল্পীদের কাজের বিষয়ে ভীষণ সহযোগিতা করেন। আমি যখন উনার সঙ্গে আমার ছবিগুলো দেখি কিংবা পর্দায় উনাকে দেখি অবাক হয়ে যাই।

সাম্প্রতিক ব্যস্ততা

‘নিঃশব্দে’ নামে একটা সিনেমার শুটিং শেষ করেছি কিছুদিন আগে। শাহরিয়ার নামে একজন নির্মাণ করেছেন এটি। এটি তার প্রথম ফিচার ফিল্ম। আরেকটা সিনেমার শুটিং ত্রিশ ভাগের মতো শেষ হয়েছে, বাকি অংশ খুব সম্ভবত আগস্ট কিংবা সেপ্টেম্বরে হতে পারে। এছাড়া ওটিটিতে এই মুহূর্তে আমার কাজের কোনো আপডেট নেই।