নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীরাই রাজাকার: এবি পার্টি

এবি পার্টির নেতারা বলেছেন, প্রত্যেক স্বৈরাচারের চরিত্র একই। জনগণের দাবি ও অধিকারের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য তারা সবসময় দলীয় লাঠিয়াল, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও পুলিশ দিয়ে নিষ্ঠুর নৃশংসতা চালায়। একইভাবে ফ্যাসিবাদী ডামি সরকার গতকাল রাত থেকে ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিয়ে সারাদেশে ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে তারা এ অভিযোগ করেন।

বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও বিএম নাজমুল হক, সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু ও যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, সারাদেশে শিক্ষার্থীরা যখন কোটা সংস্কারের একটি যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছে ঠিক সেই সময়ে ডামি সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদের রাজাকারের বাচ্চা বলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছেন। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিয়েছেন। ছাত্রলীগের গুন্ডারা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলা করেই থেমে থাকেনি, তারা হাসপাতালে পর্যন্ত হামলা করেছে।

তিনি বলেন, এই হামলার সাথে যারা জড়িত তাদের মানবতাবিরোধী ট্রাইবুনালে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তিনি হাসপাতালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকে গাজায় ইসরায়েলি হানাদর বাহিনীর আল শিফা হাসপাতালে হামলার সাথে তুলনা করে বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের হুকুমে যারাই এই হামলার সাথে জড়িত তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে চাঁদাবাজি, ঘুষ নিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকা বানিয়ে চাকরি দেওয়াসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ভুলুণ্ঠিত করেছে। তারা যেভাবে নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিয়েছে তাতে রাজাকারের চরিত্রই ফুটে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলেছেন অথচ তিনি নিজেই রাজাকারের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতা। তিনি নিজে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন রাজাকারের বাচ্চার সাথে। তার বর্তমান প্রেস সেক্রেটারি নিজে বলেছেন তার পিতা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিল। এই সরকার রাজাকারদের একটি তালিকা তৈরি করা শুরু করেছিল, ১১ হাজার লোকের তালিকা তৈরি করার পর দেখা গেল ৬ হাজারই হলো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, এরপরই তারা তালিকা বাতিল করে দেয়।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে একটি নতুন মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছে। যে যুদ্ধ আওয়ামী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসাকে চাপেটাঘাত করেছে। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের এই আন্দোলন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। যখনই সাধারণ মানুষ তাদের যৌক্তিক কোনও দাবি নিয়ে মাঠে এসেছে তখনই এই ফ্যাসিস্ট দখলদার সরকার তাদের রাজাকার, স্বাধীনতাবিরোধী ট্যাগ লাগিয়ে আন্দোলনকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করেছে। কোটা বহালও আওয়ামী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একটা চেতনার ব্যবসা।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিজয়নগর, কাকরাইল, পল্টন, প্রেস ক্লাবসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি বিজয়নগর পৌঁছলে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন -এনডিএমের সভাপতি ববি হাজ্জাজ ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ তাদের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভুইয়া, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, সিনিয়র সহকারী সদস্যসচিব এ বি এম খালিদ হাসান, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসাইন, যুবপার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, কেন্দ্রীয় সহকারী সদস্যসচিব শাহ আব্দুর রহমান ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার ফারুক, গাজী নাসির, মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ কবিরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিল।