চূড়ান্ত ছাড়পত্র নিয়েও প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর মালয়েশিয়া যেতে না পারার ঘটনায় তাদের প্রতিকার প্রশ্নে রুল দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা এবং খামখেলিপোনাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং মালয়েশিয়া যেতে ক্ষতিগ্রস্থদের জমাকৃত অর্থ সুদসহ ফেরত দিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ নির্দেশনা দেন। নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ঘটনায় তিন মাস অন্তর অন্তর সবশেষ পরিস্থিতির প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) ও বায়রার (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস) কর্তৃপক্ষকে রুলের জবাব দিতে বলেছেন হাইকোর্ট।
এর আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ জুন এক আদেশে এ ঘটনায় কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে মৌখিকভাবে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের এই দ্বৈত বেঞ্চ। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি আজ আবারও শুনানিতে আসে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার তানভীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাইকোর্ট এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রুল দিয়েছেন। এ ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন আদালত।’
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে রিট আবেদনে বলা হয়, গত ১৫ বছরে অন্তত তিনবার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ থাকার পর কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে অসাধু সিন্ডিকেট বা চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের তথ্য উঠে আসে। ২০১৬ সালে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললেও রিক্রুটিং এজেন্সির অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আবার ওই দেশে বাংলাদেশিদের শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। গত মার্চে আপাতত আর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নেবে না বলে ঘোষণা দেয় সে দেশের সরকার। ইতোমধ্যে যারা অনুমোদন বা ভিসা পেয়েছেন তাদের ৩১ মের মধ্যে (১ জুন থেকে শ্রমবাজার বন্ধ) সেই দেশে ঢুকতে হবে বলে জানায় মালয়েশিয়া। বিএমইটি (বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) থেকে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪২ কর্মীর ছাড়পত্র নেয় সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। এর মধ্যে ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭২ কর্মী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় গেলেও বাকিরা যেতে পারেননি। যদিও তারা সব প্রক্রিয়া মেনে চূড়ান্ত ছাড়পত্র নেন।