হামার ভাই ফাইভে বিত্তি পাছে, এইটে বিত্তি পাছে: আবু সাঈদের বোন

‘হামার ভাইয়ের এত মেধা যে, হামার ভাই ফাইভে বিত্তি (বৃত্তি) পাছে (পেয়েছে) হামার ভাই এইটে বিত্তি পাছে, হামার ভাই  রংপুর সরকারি কলেজ থাকি স্কলারশিপ পাছে। বাপে হামার খুশিতে কানছিল। স্কলারশিপ পাছে হামার ভাই; হামরা মূর্খ মানুষ হামরা বুঝি নাই স্কলারশিপ কী। এত মেধাবী ছাত্র ছিল হামার ভাই; কেনে সরকারে মারার অনুমতি দিল?’ 

কথা গুলো বলছিলেন রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনের প্রথম নিহত হওয়া শিক্ষার্থী আবু সাইদের বোন সুমি। বর্তমানে এলাকা জুড়ে চলছে শোকের মাতম, কান্নায় ভেসে গেছে রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপুর এলাকা।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেলে আন্দোলনকারীর উপর পুলিশের গুলিতে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র আবু সাঈদ।

সাঈদের বোন সুমি  কান্না গলায় আরো বলেন, ‘হামার ভাই রোকেয়া ভার্সিটিত ইংলিশ নিয়া অনার্স করিল। মোর  ভাইক  প্রশ্ন কচ্ছিনু (করেছিলাম) যে, ভাই মানুষ বিসিএস করে কেমন করি? তুমিও একটু কর। হামার ভাই কছিল (বলেছিল), সুমি এটা একটা চাকরির পরীক্ষা; হোক আমি চেষ্টা করব, তোর এই আশাটা আমি চেষ্টা করে দেখব। 

আমি বলছিলাম ভাই তুমি বিসিএস হন; যখন কাইও (কেউ) বিসিএস এর কথা কয়, হামার খুবই ভালো নাগে, কলিজাটা তখন কাঁপি ওঠে। তোমারও তো অনেক মেধা তুমি এটা পড়ো। 

সুমি আরো বলেন, ‘হামার ভাইয়ের তো মরার বয়স হয় নাই, হামার ভাইকে কেন মারল তারা? তার একটা হাত ভাইঙতো (ভাঙতো), তার একটা পা ভাইঙতো, কেন একেবারে মারি ফেলাইল আমার ভাইকে? কেন এতোগুলা গুলি করে তারা মাইরলো? হামাক তিনটা গুলি মারতো, হামার কলিজাটা মানতেছে না।’ 

‘হামার ভাই এত কষ্ট করে পড়ছে হামার ভাইকে আমার বাবা টাকা দেয় নাই; তায়ে বলি বেড়াইছে হামার ছেলে পড়াশোনা করছে আমার টাকা দেওয়ার মতো সামর্থ্য নাই। সেই ভাইকে কেন মারিল’?

কান্নাসিক্ত গলায় আবু সাঈদের বাবা বলেন, ‘কেন হামার ছাওয়াল মারি ফেলাইল’?

আবু সাঈদ (২৫) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপুরের মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি কোটা আন্দোলনের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। তিনিই কোটা বিরোধী আন্দোলনে প্রথম নিহত হন।