চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রতিবাদ জানিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে 'ভয় ও সন্ত্রাসমুক্ত সচল একাডেমিক ক্যাম্পাস চাই' শিরোনামে গণমাধ্যমে এক প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে বিগত কয়েকদিন যা ঘটেছে তাতে সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে শিক্ষকরা সকলেই বেদনাহত। দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলন নানান সংঘাতময় পরিস্থিতি পেরিয়ে, ৭ জনের মৃত্যু ও হাজারো তরুণের আহত হওয়ার মধ্যে দিয়ে আমাদের কাছে স্পষ্ট করেছে রাষ্ট্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিতর্কিত, একপেশে এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকা। যা দেখে আমরা বিক্ষুব্ধ।
এতে আরও বলা হয়েছে, কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ও ইন্টারনেটের গতি কমানো হয়। শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ত্যাগ করার জন্য মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় দেয়া হয় এবং অবরুদ্ধ পরিবেশে পরিবহন সেবা দেওয়া কিংবা ধাপে ধাপে হল খালি করার মতো ধৈর্য্য ধারণ করতে রাজি ছিলেন না প্রশাসকরা। এরকম দায়িত্বহীন প্রশাসকদের শীর্ষে আছেন ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, বেগম রোকেয়া ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। তাদের কেউ বলছেন ক্যাম্পাস তার নিয়ন্ত্রণে নেই, কেউ মাথা নিচু করে অভিযোগ শুনছেন, কাউকে প্রয়োজনের সময় পাওয়া যাচ্ছে না, অথচ পুলিশকে নির্দেশ দিচ্ছেন আক্রমণের। এ বড় লজ্জার দিন বাংলাদেশের ইতিহাসে।
সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক ছয়টি দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো- প্রধানমন্ত্রী তার অপরিণামদর্শী পদক্ষেপের জন্য শিক্ষার্থীসমাজের কাছে দুঃখপ্রকাশ করবেন; যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসকেরা শিক্ষার্থহীদের নিরাপত্তা না দিয়ে তাদের হামলার মুখে ছেড়ে দেবার মতো দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যসহ প্রক্টোরিয়াল বডি পদত্যাগ করবেন; নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে; হত্যাকারী এবং হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং শাস্তি দিতে হবে। আটক/ গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে হবে। সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিতে হবে এবং ছাত্রলীগের হাত থেকে ছাত্রাবাস উদ্ধার করে পুরোপুরি শিক্ষকদের ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দিতে হবে। মেধার ভিত্তিতে ছাত্রাবাসের আসন বণ্টন করতে হবে। হলগুলো ছাত্রলীগের দখলমুক্ত রাখতে হবে এবং অবিলম্বে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটার যৌক্তিক সংস্কার করতে হবে। সংবিধানের আলোকে একটি কমিটি গঠন করে কোটা সংস্কারের রূপ নির্ধারণ করতে হবে। কমিটিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে।