বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেশকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে সরকার। তিনি বলেন, বিটিআরসির পক্ষ থেকে ১৭ জুলাই দুপুরে বলা হয়েছিল আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সহায়তা করতেই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরের দিন সন্ধ্যায় মহাখালী সার্ভার স্টেশনে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে বক্তব্য পরিবর্তন করে থেকে বলা হচ্ছে অগ্নিকাণ্ডের জন্যই ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেছে। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত দেশের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। সাধারণ মানুষের ধারণা যেকোনো অজুহাত সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে রেখেছে।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে জি এম কাদের বলেন, এখন শোনা যাচ্ছে সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট সেবা চালু করার কথা ভাবছে সরকার। এখনই ফেসবুক ও ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চালু করা হবে না। সাধারণ মানুষের ধারণা, ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রলীগসহ সরকারী দলের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠন সমূহের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের তথ্যসমূহ প্রকাশিত প্রচারিত হবার আশংকা আছে। হয়তো এ কারনেই সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ রাখতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ ও অবাধ তথ্য বিনিময়ে বাধা সৃষ্টি মানুষের স্বাভাবিক অধিকার পরিপন্থী।
তিনি বলেন, বিভিন্ন অজুহাতে সরকার সারা দেশের ইন্টারনেট পরিসেবা সেবা বন্ধ করায়, বন্ধ হয়ে গেছে দেশের সকল ব্যবসা-বানিজ্য। অনলাইনে রিচার্জ করতে না পেরে অনেক বাসা-বাড়িতে বিদ্যুত ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে আছে। এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে পারছে না কেউ। বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। প্রবাসী শ্রমিকরা যথাসময়ে কর্মস্থলে যেতে না পারায় ভিসা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। দেশের তৈরী পোষাক শিল্পসহ রপ্তানিযোগ্য সকল ব্যবসায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে গেছে। এক কথায় দেশের অর্থনৈতিক সকল চাকা অচল হয়ে আছে। ইন্টারনেট না থাকায় মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ভাবেও দেশ ক্ষতিগ্রন্থ। বর্তমান নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট পরিসেবা যতবেশি বন্ধ থাকবে, আগামীতে মানুষের জীবন ও জীবিকা ততটাই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।