কুষ্টিয়ায় ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস (ইনমাস) ক্যানসার ও হরমোনজনিত রোগ নির্ণয় সেবা চালু করেছে। এটি বাংলাদেশ পরমাণু কমিশনের একটি প্রতিষ্ঠান। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষামূলক সেবা চালু হয়েছে। এখন ইনমাস সেন্টারের কার্যক্রম পুরোদমে চলছে।
কুষ্টিয়া ইনমাস সেন্টারের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সানি আনাম চৌধুরী জানান, ইনমাস সেন্টার কুষ্টিয়ায় ইতিমধ্যে বিভিন্ন রোগ নির্ণয় ছাড়াও বিশেষ করে থাইরয়েডজনিত ও হরমোনজনিত রোগের চিকিৎসাসেবাও দিচ্ছে। এ জাতীয় রোগীরা খুব সহজ ও স্বল্পমূল্যে এখান থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে স্থাপিত ইনমাস সেন্টারে স্তন, মূত্রতন্ত্র ও ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্তের পরীক্ষা ও রেডিওথেরাপি চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া লিভার ক্যানসার, লিভার কোষের কার্যকারিতা ও অস্বাভাবিকতা শনাক্ত ও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। একইভাবে হরমোনজনিত রোগ নির্ণয় ও কিছু কিছু রোগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে এসব সেবা পেতে যে পরিমাণ খরচ হয় তার চেয়ে অনেক কম খরচে ইনমাস সেন্টার থেকে সেবা মিলছে।
মেহেরপুরের গাংনীর কলেজছাত্রী সাবিনা ইয়াসমিন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে বহির্বিভাগের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসক দেখান। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক তার রোগ নির্ণয়ের জন্য কয়েকটি পরীক্ষা করতে বলেছিলেন। কুষ্টিয়ার কলেজ মোড়ের একটি হাসপাতালে গেলে পরীক্ষাগুলোর জন্য ৩৭০০ টাকা লাগবে বলে জানায়। আরেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলে বলা হয় সাড়ে ৩ হাজার টাকা। অন্য আরেকটিতে ৪২০০ টাকার কথা বলা হয়। পরে জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ ও ইনমাস সেন্টার থেকে পরীক্ষাগুলো করিয়েছেন তিনি। খরচ হয়েছে ৭২০ টাকা। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস কুমার জানান, ইনমাস সেন্টার রোগ নির্ণয়ে মানসম্মত পরীক্ষা-নিরীক্ষার একটা নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। খরচও কম।