‘সকালে নাস্তা করতে বের হয়েছিলাম। রামপুরার বউবাজারে পৌঁছলে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পাই। সবাই দৌড়াচ্ছিল। কিছু বোঝার আগেই একটি গুলি বুকের বাম পাশ দিয়ে ঢুকে যায়। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি হাসপাতালে’— এভাবেই বলছিলেন রামপুরার বাসিন্দা মিরাজ হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীরে বিদ্ধ গুলি বের করা হয়েছে। শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল হলেও তিনি খেতে পারছেন না এবং শরীরে লাগানো পাইপের মাধ্যমে টয়লেট করতে হচ্ছে।
শুধু মিরাজই নন, বর্তমানে গুলি ও ছররা গুলিতে আহত অন্তত ২১৭ জন রোগী ঢামেকে চিকিৎসাধীন। তাদের প্রায় সকলের গল্পই একইরকম। তাদের কেউ কিশোর, কেউবা মধ্যবয়সী। কেউ ছররা গুলি, আবার কেউ গুলিতে আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের অনেকেই দাবি করেছেন, এই সহিংসতা বা বিক্ষোভের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
রোববার সন্ধ্যায় বাইরের পরিস্থিতি দেখতে গিয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম। এ সময় পিঠে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শরীরে বিদ্ধ গুলি বের করা হলেও হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন তিনি।
শফিকুল বলেন, ‘শরীর নড়াতে পারি না। কখনো কখনো এত ব্যথা হয়, মনে হয় যেন মরে গেলেই ভালো ছিল।’
নিউমার্কেট এলাকার মধ্যবয়সী ব্যবসায়ী মো. সুমন বলেন, ‘শুক্রবার জুমার নামাজের জন্য বের হয়েছিলাম। নিউমার্কেট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ একটা বুলেট আমার গায়ে লাগে। ডাক্তাররা জীবন তো বাঁচিয়ে দিলো, কিন্তু কোনো দিন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব না মনে হয়।’
শুক্রবার গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেডের আওয়াজ পেয়ে সারাদিন বাড়ি থেকে বের হননি মো. রুবেল। কিন্তু খাবার পানি শেষ হয়ে গেলে পানি কিনতে বের হন তিনি। মুগদা বিশ্বরোডে যাওয়ার পর একটি গুলি তার পিঠে বিদ্ধ হয়।
ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ধারালো ধারালো অস্ত্র, ছররা গুলি ও গুলির আঘাতে আহত প্রায় এক হাজার ৭১ জন রোগী ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই সময়ে অন্তত ৬০ জনের মরদেহ আনা হয়েছে এবং ১৯ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানান তিনি।