নিষিদ্ধের পর ইমরান খানের দলের সদর দফতর সিলগালা

আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণার পরেই পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর সদর দফতর সিলগালা করেছে দেশটির সরকার। স্থানীয় সময় সোমবার রাতে এ পদক্ষেপ নেয় শেহবাজ শরিফ সরকার। এ সময় কয়েকজন নেতাকর্মীকেও আটক করা হয়। রাজধানী ইসলামাবাদের পাশাপাশি লাহোর, করাচিসহ বিভিন্ন শহরে ইমরানের দলের দফতরগুলোও সিল করেছে পাক সরকার। খবর ডনের।

জানা গেছে, রাজধানী ইসলামাবাদের পাশাপাশি লাহোর, করাচিসহ বিভিন্ন শহরে ইমরান খানের দলের দফতরগুলো সিলগালা করা হয়েছে। গত সপ্তাহে দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছিলেন ইমরানের দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে চলেছেন তারা। 

তিনি বলেন, “নিয়ম-বহির্ভূতভাবে বিদেশি অনুদান পাওয়া, ৯ মে সহিংসতায় সরাসরি জড়িত থাকা, সাইফার (রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস) মামলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব তথ্যপ্রমাণ মিলেছে, আমরা বিশ্বাস করি, তা পিটিআইকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে যথেষ্ট।”

এরপর সরকারিভাবে পিটিআইকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করা হয়। ইমরান খানের দলের স্বীকৃতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলাকালীনই পাকিস্তান সরকারের এই পদক্ষেপ ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ইমরান খান বর্তমানে আদিয়ালা জেলে বন্দি। ইসলামাবাদ পুলিশ মঙ্গলবার জানিয়েছে, তার দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রউফ হাসানসহ ১০ জন নেতানেত্রীকে আটক করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের গোড়ায় পাকিস্তানের শীর্ষ আদালত কার্যত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত খারিজ করে জানিয়েছিল- সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানে পিটিআই দলগতভাবেই পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ২৩টি সংরক্ষিত আসন পাওয়ার যোগ্য।

ওই মামলায় নির্বাচন কমিশনের যুক্তি ছিল, আনুপাতিক ভোটের হার অনুযায়ী শুধুমাত্র স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলোরই নারী এবং সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত ৭০টি আসন প্রাপ্য। পিটিআইয়ের স্বীকৃতি বাতিল হওয়ায় তারা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেতে পারে না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের ১৩ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ সরাসরি সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। এর পরেই পিটিআইকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তান সরকার।