খেলার মাঠে ফিরেছে ফেসবুক-টিকটক প্রজন্ম 

কোটা সংস্কার আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে দেশে বন্ধ হয়ে যায় ইন্টারনেট সেবা। গত বৃহস্পতিবার রাতে সারা দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়, পাঁচ দিন পর গতকাল রাতে সীমিত আকারে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ চালু হয়। ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধ থাকায় ফেসবুক ইউটিউব ও টিকটকে মগ্ন থাকা তরুণ প্রজন্ম ভার্চুয়াল দুনিয়া ছেড়ে বাস্তব দুনিয়ায় ফিরে আসে। তারা ঘরে বসে অলস সময় পার করতে না পেরে কেউ বইয়ে ফিরেছিলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আড্ডায় মেতেছিলেন আবার অনেককেই দেখা যায় বাসার পাশে খেলার মাঠে ফুটবল ক্রিকেট খেলায় মেতে থাকতে। 

গত সোম ও মঙ্গলবার সারা দেশে যখন কারফিউ চলছিল তখন রাজধানীর বাংলামোটর থেকে মগবাজার যাওয়ার প্রধান সড়কের উভয় পাশে দেখা যায় বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে ক্রিকেট খেলছেন তরুণরা। তাদের সঙ্গে বয়সে ত্রিশের কোটা পেরিয়ে যাওয়া অনেককেই ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়। এমনি একটি দলের সঙ্গে কথা হয় দেশ রূপান্তররে এই প্রতিবেদকের। মুনিম হায়দার নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, কারফিউ থাকার কারণে কলেজ বন্ধ। এদিকে বাসায় ইন্টারনেট নেই। শুয়ে বসে সময় যাচ্ছে না, তাই পাড়ার সিনিয়র ও জুনিয়ররা মিলে ক্রিকেট খেলছি। 

শুধু বাংলামোটরই নয় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার তরুণ তরুণীদেরও ফুটবল, ক্রিকেট ও লুডু সহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করতে দেখা যায়। 
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফিউল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগে যখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকতো তখন মোবাইলে বিভিন্ন গেম খেলতাম, ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার দিতাম, বন্ধুদের সঙ্গে ম্যাসেঞ্জার হোয়াটসঅ্যাপ ও বিভিন্ন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে আড্ডা দিতাম। সন্ধ্যা হলে মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খেতে যেতাম। কারফিউয়ের কারণে এখন সেসবের কিছুই সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে রাস্তায় যেহেতু যানবাহনের চাপ একদম নেই তাই ফুটবল খেলছি। 

তিনি বলেন, পাড়ায় একটা খেলার মাঠ থাকলে সুবিধা হতো। রাস্তায় খেলার মধ্যে আনন্দ পাওয়া যায় না। আঘাত পেতে হয়। একটা খেলার মাঠ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এখন তা বোঝা যাচ্ছে গভীরভাবে।
ঢাকা শহর নাগরিকদের জন্য বাসযোগ্য নয় নগরবিদরা বহুদিন ধরে এমন কথা বলে আসলেও কেউ গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না। এবার ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধ থাকায় এই শহরে নাগরিক সুবিধার কতটা বেহাল দশা তা আবার আমাদের দেখিয়ে দিয়ে গেছে। রাজধানীর সিংহভাগ এলাকায় খেলার মাঠ নেই, ২০ বছর আগেও যে মাঠগুলো ছিল তা দখল হয়ে গেছে। অন্যদিকে শহররে বেশীরভাগ এলাকায় আড্ডা দিয়ে সময় কাটানোর মতো জায়গা নেই। অল্প কিছু পার্ক ও রেস্টুরেন্ট ছাড়া আড্ডা দেওয়ার সুবিধা সীমিত।  

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সারোয়ার আহামেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ থাকার এই সময়টা আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। এই সময়টা দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের নাগরিক সুবিধার কত ভগ্ন দশা। তরুণ প্রজন্ম ইন্টারনেট আর বিভিন্ন গেমে ডুবে থাকার কারণে তাদের সামাজিকীকরণ সঠিকভাবে হচ্ছে না। এখন এই কয়টা দিনের অভ্যাস কাজে লাগিয়ে অভিভাবকদের উচিত শিশুদের মোবাইল থেকে দূরে রাখতে যেটুকু সুবিধা আছে তা কাজে লাগিয়ে খেলতে দেওয়া, তাদের আড্ডার সুযোগ করে দেওয়া, বই পড়তে অনুপ্রাণিত করা।