কমলা হ্যারিসকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত ভারতের যে গ্রাম

থুলসেন্দ্রপুরম, দক্ষিণ ভারতের শহর চেন্নাই থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে এবং ওয়াশিংটর ডিসি থেকে ১৪ হাজার কিলোমিটার দূরের ছোট্ট একটি গ্রাম। জানা যায় ভারতের ওই ছোট্ট গ্রামটিতেই বসবাস করছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের নানা-নানি। কমলা হ্যারিসকে আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে লড়াইয়ে বাইডেন সমর্থন দেওয়ার পরপরই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন থুলসেন্দ্রপুরমের সাধারণ জনগণ।

গ্রামটির কেন্দ্রে এখন সগৌরবে শোভা পাচ্ছে ৫৯ বছর বয়স্ক কমলা হ্যারিসের ব্যানার। তার জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেছে গ্রামের মানুষ। গ্রামটির মন্দিরে দান করাদের তালিকায় আছে সম্ভাব্য এই ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর নানার নামও। সেখানে বিতরণ করা হয়েছে মিষ্টি।

জো বাইডেনের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো এবং সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে কমলা হ্যারিস আবির্ভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই গ্রামের বাসিন্দাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এসব তথ্য জানা যায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে।

থুলসেন্দ্রপুরম বাসিন্দা অরুলমোজি সুধাকর বলেছেন, এই গ্রামের শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই তাকে চেনে। তিনি বলেছেন, আমার মা, বোন সবাই তার ভক্ত। তিনি আমাদের গ্রামের প্রতীক হয়ে বিশ্ব দরবারকে নেতৃত্বের যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠেছেন। গ্রামবাসী আনন্দিত যে কমালা তার শিকড় ভুলে যাননি। কেননা কমলা হ্যারিসকে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করার পর ওই গ্রামের বাসিন্দারা খুশিতে আতশবাজি ফুটিয়েছেন এবং রাস্তার এখানে সেখানে তার পোস্টার লাগিয়ে আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করেছেন। এছাড়া গ্রামবাসীরা বিশাল ভোজের আয়োজন করেন যেখানে গ্রামের শত শত মানুষ জড়ো হয়ে কমলার নামে স্লোগান দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, কমলা হ্যারিস একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তার মায়ের নাম শ্যামলা গোপালান। তার মা একজন স্তন ক্যান্সার গবেষক যিনি ১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের যান। এর আগ পর্যন্ত তিনি ভারতের দক্ষিণ রাজ্য তামিলনাড়ুর বাসিন্দা ছিলেন। কমলার নানা বাড়ি ভারতের থুলসেন্দ্রপুরম গ্রামে। গ্রামটি দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত। শ্যামলা মাত্র ১৯ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং সেখানে পড়াশুনা করেন। 

তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞানী এবং মানবাধিকার কর্মী। কমলা তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক পোস্টে এসব তথ্য জানিয়েছেন। কমলার মায়ের মৃত্যুর তিনি তার বোনকে নিয়ে ভারতের চেন্নাই শহরে সফর করেছিলেন। হিন্দু রীতি অনুযায়ী তারা তাদের মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান করেন ভারতেই।