ভারতে বাজেট পেশ, সংসদের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ

তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বাজেট ঘোষণা করেছে মোদী সরকার। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নতুন বাজেট পেশ করেন দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।

তবে বাজেট পেশের পর পরই ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে পড়েছে মোদি সরকার। বাজেটে বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশের উন্নয়নে বিপুল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ নিয়ে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী ও অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ।

ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেটকে মোদির ‘সরকার বাঁচানোর বাজেট’ অভিহিত করে বিরোধী পক্ষ গতকাল বুধবার সংসদ ভবনের ভেতরে ও বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের প্রতি ‘বঞ্চনার বাজেট’ বলে অভিহিত করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধাবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় কলকাতার সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার।

বুধবার সংসদ ভবন চত্বরে বিক্ষোভে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীদের পাশে দাঁড়িয়ে অন্য রাজ্যগুলোকে বঞ্চনার অভিযোগ তোলেন অখিলেশ যাদব, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী দলের নেতা ও সংসদ সদস্যরা।

বিরোধীদের অভিযোগ, এই বাজেটের মূল লক্ষ্য অন্ধ্র প্রদেশ ও বিহারকে খুশি রাখা, যাতে দুই শরিক তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) ও জনতা দল সংযুক্ত (জেডিইউ) সরকার থেকে সমর্থন তুলে না নেন।

পরবর্তীতে লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হন তারা। রাজ্য়সভায় বিরোধী নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, দুটি রাজ্যকে ঢালাওভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বাকিদের কিছুই দেওয়া হয়নি। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

বিরোধীরা এই বাজেটকে ‘লজ্জার’, ‘জনবিরোধী’ ও ‘ধ্বংসাত্মক’ বর্ণনা করে বলেন, মোদির চিন্তায় সরকারের অস্তিত্ব রক্ষা ছাড়া আর কিছু ছিল না। তাই সবার স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে শুধু দুই শরিকের কথা তিনি ভেবেছেন। রাহুল বলেন, ‘এটা মোদির কুর্সি বাঁচানোর বাজেট।’

এই বঞ্চনার প্রতিবাদে আগামী শনিবার নীতি আয়োগের বৈঠকে কংগ্রেসের কোনো মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন না। এমনকি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনও ওই বৈঠক বর্জন করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।