পাঁচ দিন পর ইন্টারনেট চালু হওয়ার পর দিনাজপুরের হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের এসাইকোডা ওয়ার্ল্ড সার্ভার সচলসহ কাস্টমসের সকল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে করে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্যের পরীক্ষণ শুল্কায়নসহ সবধরনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ফলে বন্দর দিয়ে সবধরনের পণ্যের আমদানি রপ্তানি শুরু হয়েছে।
বুধবার সকাল থেকে ইন্টারনেট চালু হলে কাস্টমসের সার্ভার সচল হয়। এতে কাস্টমসে আমদানিকৃত পণ্যের বিলঅব এন্ট্রি সাবমিট থেকে শুরু করে সবকিছু অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। তবে ইন্টারনেটের গতি ধীরগতিতে হওয়ায় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে বলে দাবী বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের।
হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শুভ ইসলাম বলেন, ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় গত বৃহস্পতিবার থেকে কাস্টমসের এসাইকোডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সার্ভার বিকল হয়ে যায়। এতে করে কোন পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করা সম্ভব হচ্ছিল না। শনিবার থেকে বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত কাঁচাপণ্য দ্রুত ছাড়করণের জন্য কাস্টমসের কমিশনারের নির্দেশে স্থানীয় কাস্টমস কতৃপক্ষ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এসবের পরীক্ষণ শুল্কায়ণ সম্পন্ন করে পণ্যগুলো ছাড়করণ দেন। কিন্তু অন্যান্য পণ্যগুলো ছাড়করণ না দেওয়ায় শুকনা পণ্য আমদানি বন্ধ ছিল। ইন্টারনেট সংযোগ চালু হওয়ার পর কাস্টমসের এসাইকোডা ওয়ার্ল্ড সার্ভার সচল হয়। এতে করে আমরা আমদানিকৃত পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট থেকে শুরু করে সকল কার্যক্রম করতে পারছি। বন্দর দিয়ে সকল ধরনের পণ্য আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম চলছে। ইন্টারনেট না থাকার কারণে যেটি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করতে হচ্ছিল এখন সেটি এসাইকোডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের ডাটাবেজে পুর্ণাঙ্গভাবে এন্ট্রি দিয়ে সেসব পণ্য বাহির করছি। সাময়িক অসুবিধা এতটুকুই যে ইন্টারনেটের স্পিডটা ধীরগতিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি চালু ছিল। তবে ইন্টারনেট না থাকায় কাস্টমসের সার্ভার সচল ছিল না। যার কারণে বিকল্প ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত শুধুমাত্র পেঁয়াজ কাঁচামরিচসহ কাঁচাপণ্যগুলো কাস্টমস ছাড়করণ দিয়েছে। এতে করে গতকয়েকদিন ধরে বন্দর দিয়ে শুধুমাত্র কাঁচাপণ্যগুলোই আমদানি হচ্ছিল। তবে গতকাল থেকে ইন্টারনেট চালু হওয়ায় কাস্টমসের সার্ভার সচল হয়েছে। যার কারণে গতকাল থেকেই বন্দর দিয়ে সবধরনের পণ্য আমদানি রপ্তানি শুরু হয়েছে। গতকাল একদিনেই বন্দর দিয়ে ৮৭ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে। ইন্টারনেট না থাকায় সেসময় বন্দর দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ট্রাক করে পণ্য আমদনি হয়েছিল।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের বিল অব এন্ট্রি থেকে শুরু করে সবকিছু অনলাইনে সম্পন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু ইন্টারনেট না থাকায় কাস্টমসের এসাইকোডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে গত কয়েকদিন ধরে ঢুকা সম্ভব হচ্ছিল না।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচসহ অন্যান্য কাচাপণ্য ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এন্ট্রি করে সেগুলোর পরীক্ষণ শুল্কায়ন ও রাজস্ব আহরণ করে ছাড়করণ দেওয়া হয়। অন্যান্য পণ্যের বিষয়ে কোনো সিন্ধান্ত না পাওয়ায় সেগুলো ছাড়করণ দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল বিকেল থেকে অন্যান্য পণ্য ছাড়করণ দেওয়া শুরু করেছিলাম। বুধবার সকাল থেকে ইন্টারনেট চালু হওয়ায় কাস্টমসের সার্ভার সচল হয়। এখন সার্ভার সচল থাকায় কাস্টমসের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে আপাতত কোনো সমস্যা নেই। সবধরনের পণ্যের পরীক্ষণ শুল্কায়ন অনলাইনের মাধ্যমে চলছে কোনো সমস্যা নেই।