ভাঙচুর আগুনের ক্ষত

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আরিচামুখী সার্ভিস লেনে সাভার মডেল মসজিদের আগেই ময়লার স্তূপের পাশে ভস্মীভূত হওয়া চারটি বাস, একটি ট্রাক, একটি পিকআপ ও একটি মাইক্রোবাস রাখা হয়েছে। কোটা আন্দোলনে গত বুধবারের বিক্ষোভের সময় সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে এসব যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেগুলো রেকার দিয়ে এখানে এনে রাখা হয়।

নাশকতার এমন ক্ষত সাভারের বিভিন্ন স্থানে এখনো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। গত সপ্তাহে আন্দোলনকারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ও অবরোধ-বিক্ষোভের সময় পুলিশের ব্যাপক পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীসহ ১০ নিহত এবং পুলিশসহ কয়েকশ লোক আহত হয়েছে।

গত বুধবার সাভারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রেডিও কলোনি থেকে সাভার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পাকিজা এলাকায় সড়ক বিভাজকের বেশ কিছু অংশ সড়কের ওপর পড়ে আছে। থানা স্ট্যান্ডসংলগ্ন থানা রোডের মাথায় একটি ভবনের নিচে মিষ্টির দোকানের বাইরে পোড়া চিহ্ন। পুলিশ বক্সটি ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর উত্তর পাশেই কয়েকটি ভবনের পরে অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সাভার শাখা। কমপ্লিট শাটডাউনের মধ্যে গত শুক্রবার সকালে হঠাৎ শতাধিক লোক ভেতরে প্রবেশ করে। তারা দাবি করেন, ওই ভবনের ওপর থেকে পুলিশ গুলি করেছে।

ভেতরে ঢুকে তারা নিচতলার রিসিপশন, ফার্মেসি, এক্সরে কক্ষসহ সবকিছু ভাঙচুর করে লুটপাট চালায়। কাগজপত্রসহ বিভিন্ন ফাইল নিয়ে সড়কে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সাভার শাখার ম্যানেজার আবদুল খালেক বলেন, প্রায় ৪০টি কম্পিউটারসহ, রিসিপশন, ফার্মেসি, এক্সরে কক্ষ ভাঙচুর ও পাঁচ লক্ষাধিক টাকা লুটপাট হয়েছে। আসবাব ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়েছে।

সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি পুলিশ বক্স ও সড়ক বিভাজকের ওপরে দেওয়া লোহার রেলিং ভাঙচুর করা হয়েছে।

উপড়ে ফেলা হয়েছে সড়ক বিভাজক। পাশেই অবস্থিত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি গাড়ি, কার্যালয়ের ভেতরে ভাঙচুর হওয়া আসবাব ও পুড়ে যাওয়া কাগজপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছিল। এ ছাড়া মহাসড়কসংলগ্ন সাভার সিটি সেন্টার ভবনের সামনের অধিকাংশ কাচ ভাঙা এবং শাটারে আঘাতে চিহ্ন দেখা গেছে। স্মরণিকা এলাকায় স্থানীয় পত্রিকা ফুলকির কার্যালয়ের কাচ ও আসবাব ভাঙচুর অবস্থায় দেখা গেছে। এমনকি হামলাকারীরা ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ের গেট এবং ভেতরে থাকা একটি হায়েস মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালিয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার বিকেলে কয়েকশ দুষ্কৃতকারী হামলা করে আমাদের ফটক ভেঙে কার্যালয়ে চারটি কক্ষে ও গ্যারেজে আগুন দেয়। এ ছাড়া কার্যালয়ের ১৩টি কক্ষ ভাঙচুর করে। রাতে এসি, ফ্রিজ, ফ্যানসহ বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আবদুল্লাহিল কাফী বলেন, সাভার বাসস্ট্যান্ডসহ থানা বাসস্ট্যান্ড ও রেডিও কলোনি এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আশপাশের বিপণিবিতানসহ ১৫ থেকে ২০টি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। আন্দোলনের নামে যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুর করেছে, লুটপাট করেছে, তারা কেউ ছাত্র নয়। সংঘর্ষের সময় স্থানীয় অনেকেই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যুক্ত হন। তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।