‘পুলিশ মারলে ১০ হাজার ছাত্রলীগ মারলে ৫ হাজার’

বগুড়ার যুবদল নেতা নুরে আলম সিদ্দিকি পিটন যুক্তরাজ্য থেকে নির্দেশনা পান পুলিশ মারলে ১০ হাজার এবং ছাত্রলীগ মারলে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই ঘোষণার পর মাঠে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয় নুরে আলম সিদ্দিকির দুলাভাই মো. আব্দুল আজিজ ওরফে সুলতানকে। গত বুধবার রাতে সুলতানকে গ্রেপ্তারের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, সরকার পতনের আন্দোলন বাস্তবায়নের জন্য গ্রেপ্তার আসামি আজিজ টোকাই ও ছিন্নমূল শ্রেণির লোকদের দিয়ে একজন ছাত্রলীগকে মারলে ৫ হাজার এবং একজন পুলিশ সদস্য মারলে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ কাজ বাস্তবায়নের জন্য তিনি জামায়াত-শিবির ও বিএনপির ক্যাডারদেরও নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রেপ্তার আসামির প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় রাজধানীর উত্তরা ও আব্দুল্লাহপুরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

তিনি বলেন, তারা ভেবেছিল পুলিশের যদি মনোবল ভেঙে দেওয়া যায় তাহলে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির যে ষড়যন্ত্র তা সফল হবে। সেই মানসিকতা নিয়েই গত বছরের ২৮ অক্টোবরও পুলিশের ওপর হামলা করেছিল। সে সময় একজন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এবার যারা আমাদের তিন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে তাদের নাম-পরিচয় পেয়েছি। তাদের যত দ্রুত সম্ভব ধরে এনে আইনের আওতায় দাঁড় করাবই। পুলিশ ও ছাত্রলীগ মারলে যারা টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল তাদের মধ্যে কয়েকজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। যারা ঢাকা শহরকে অকার্যকর করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাইফুল ইসলাম নীরব, এস এম জাহাঙ্গীর, রফিকুল ইসলাম মজনু ও আমিনুল ইসলামসহ অসংখ্য জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মী আমাদের কাছে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তাদের মোবাইল থেকে অনেক মেসেজ পেয়েছি। যারা দেশের বাইরে থেকে তাদের নির্দেশনা দিয়েছে যে, ‘নতুন কমিটির দায়িত্ব তোমাদের দেওয়া হয়েছে, যদি নির্দেশনা না মানো তাহলে তোমাদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হবে।’