নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তার জায়গায় ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এবার কমলা হ্যারিস বৈঠক করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) হোয়াইট হাউজে কমলার সাথে বৈঠক করেন ওয়াশিংটনে সফররত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বৈঠকে গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ বন্ধের চাপ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট। খবর আল জাজিরা।
গাজায় ইসরায়েলি হামলা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে কমলা হ্যারিস বলেন, ‘আমি সেখানকার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আমার উদ্বেগের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছি। গাজার দুর্ভোগ নিয়ে আমি চুপ থাকবো না। সময় এসেছে, এই যুদ্ধ বন্ধ করার।‘
বিশ্লেষকদের দাবি, এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে কমলা ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন নীতিতে পরিবর্তন আনবেন তা স্পষ্ট হলো। একই সঙ্গে তার এই তীক্ষ্ণ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি কিভাবে নেতানিয়াহুকে মোকাবিলা করবেন সে বিষয়টিও পরিষ্কার হয়েছে।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব কমলা বলেন, ‘ইসরায়েলের অবশ্যই আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেটি কীভাবে করা হচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে যুদ্ধে অনেক নিরীহ বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।‘
এ সময় সাংবাদিকদের সামনে গত নয় মাসে গাজা যুদ্ধের বিধ্বংসী রুপ নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এই ট্র্যাজেডিগুলো নেওয়ার মতো না। আমি গাজা উপত্যকার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতানিয়াহুর কাছে গভীর উৎকণ্ঠা জানিয়েছি।‘
এ সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে মার্কিন-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কমলা হ্যারিস।
হ্যারিস আরও বলেন, “এই যুদ্ধের শেষ করার সময় এসেছে যেখানে ইসরায়েল নিরাপদ থাকবে, সমস্ত জিম্মি মুক্তি পাবে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ শেষ হবে এবং ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ফিরে পাবে।"
কমলা হ্যারিসের সাথে বৈঠকের আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে হোয়াইট হাউজে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। আলোচনায় গাজায় ৯ মাস ধরে চলা সংঘাতে একটি যুদ্ধবিরতির জন্য নেতানিয়াহুকে চাপ দেন বাইডেনও।