আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ নিয়ে নানা রকম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিজস্ব বসতবাড়ি থাকা সত্ত্বেও একাধিক নতুন ঘর পেয়েছেন বিভিন্ন ব্যক্তি।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় দ্বিতীয় ধাপে বাগাতিপাড়া উপজেলার পাকা ইউনিয়নের সালাইনগর এলাকায় ৪০ টি ঘর নিমার্ণ করা হয়েছে। ১ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত ১১ জুন সারা দেশে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর এগুলোও হস্তান্তর করা হয়েছে। আর এই ঘর হস্তান্তরের পরই উঠে এসেছে নানা রকম অনিয়ম। বঞ্চিত হয়েছেন উপকারভোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকরী সমসের আলীর (৬৫) নিজের বসতবাড়ি থাকা সত্ত্বেও তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছেন। তার ছেলেদের বাড়ি থাকা সত্ত্বেও ছেলে নয়ন ও মোহনের নামে দুটি বাড়ি পাইয়ে দিয়েছেন তিনি।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রায় ১৫ বছর ধরে বসবাস করে আসা শরিফা বেগম (৩২) জানান, স্বামী ও এক সন্তান নিয়ে তার পরিবার। তিনি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় নতুন ঘর পাবার আশায় পুরাতন ঘর ছেড়ে দিয়ে কিছু দিনের জন্য আশ্রয় নেয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশেই এক ঝুপড়ি ঘরে। তিনি এখন ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আশ্রয়ণ প্রকল্পে নতুন ঘর নির্মাণ হয়েছে কিন্তু তার ভাগ্যে মেলেনি নতুন ঘর।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী আয়েশা (৫০) জানান, তিনি তার এক সন্তান নিয়ে ১৮ বছর থেকে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করছেন। তার নামেও ঘর বরাদ্ধ হওয়ার কথা থাকলেও তিনি ঘর পাননি। এখন তার মা চায়নার (৭৫) সঙ্গে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩০ নম্বর ঘরে থাকেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিমুল ইসলাম বলেন, ঘর হস্তান্তর বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আর বিষয়টি নিয়ে তিনি সহকারী কমিশনারের (ভূমি) এর সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, তিনি নায়েব সাহেবকে পাঠাবেন ঘটনাটি দেখার জন্য এবং পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনামিকা নজরুল বলেন, যাদের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাদের বের করে দেওয়া বেআইনি হবে। গৃহহীন মুক্ত উপজেলা তার পরেও যদি গৃহহীন থেকে থাকে তাদের বরাদ্দের জন্য আবেদন করা যেতে পারে।

তিনি নতুন যোগদান করেছে তাই যারা বরাদ্দের দায়িত্বে ছিলেন তারা বলতে পারবেন বলে জানান।