ট্রিগার ফিঙ্গার কেন হয় কী করবেন

ট্রিগার ফিঙ্গার (Trigger Finger) হলো হাতের আঙুলের খুবই কষ্টদায়ক একটি অবস্থা। আঙুল বা বৃদ্ধাঙ্গুলকে বাঁকা অবস্থায় আটকে দেয়। খুবই ব্যথা হয় যখন আঙুলটাকে বাঁকা করা বা সোজা করার চেষ্টা করা হয়। Flexor tendon  এটি হাতের সব আঙুলের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। ফ্লেক্সের টেন্ডন যখন বাধাগ্রস্ত হয়, তখন ট্রিগার ফিঙ্গার দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত টেন্ডনে ছোট ছোট nodule বা স্ফীতি ঘটতে পারে। এসবই হাতের smooth movement-কে বাধা দেয়। আঙুল হঠাৎ আটকে যাওয়ার পর মনে হতে পারে কিছু তাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে।  ট্রিগার ফিঙ্গার যা স্টেনোসিং টেনোসাইনোভাইটিস বা ফ্লেক্সের টেনডোনাইটিস নামেও পরিচিত। এ রোগে আঙুলের আক্রান্ত অংশটুকু দ্রুত সোজা হয়, অনেকটা বন্দুকের ট্রিগার টান দেওয়া ও ছেড়ে দেওয়ার মতো, তাই এর নাম ট্রিগার ফিঙ্গার। এতে আঙুলের টেন্ডনের চারপাশের স্থানটি স্ফীত হয় বা ফুলে যায়।

লক্ষণ

ট্রিগার ফিঙ্গার হলে আঙুল সোজা করার সময় আপনার মনে হবে আঙুল ভেঙে যাচ্ছে। কোনোভাবেই নাড়াতে পারছেন না। কোনো কিছু ধরতে গেলে আঙুল ষড়পশ হয়ে যায়। সকালের দিকে আঙুলে শক্ত একটা ফ্রিজি ভাবটা বেশি থাকে।

কারা আক্রান্ত হন

যারা কোনো কাজ বা খেলার সময় দীর্ঘক্ষণ হাত ও কবজি নাড়াচাড়া (একই রকমের বা পুনরাবৃত্তিমূলক) করেন, তাদের ট্রিগার ফিঙ্গার হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে একই ধরনের কাজ করায় শ্রমিকদের, বিশেষ করে পোশাক শ্রমিকদের এ সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। যাদের অন্যান্য রোগ যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস মেলাইটাস, বারবার আঘাত বা ট্রমা ও টিবির মতো রোগ রয়েছে, তাদের ট্রিগার ফিঙ্গার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। নারীদের এই রোগে বেশি হতে দেখা যায়। এ ছাড়া ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে এ রোগ বেশি হয়।

চিকিৎসা

সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য একজন অর্থোপেডিক সার্জনের শরণাপন্ন হতে পারেন। তিনি হাত ও কবজি পরীক্ষা করে তীব্রতা অনুসারে সঠিক পরামর্শ দেবেন।

হ্যান্ড থেরাপিস্টের পরামর্শ ও দেখানো নিয়ম অনুযায়ী

থেরাপিগুলো নিয়মিত করুন। কিছু ব্যায়াম নিয়মিত বাড়িতে চালিয়ে যেতে হবে। একটি তোয়ালে বা সুতি কাপড়ের ভেতর বরফের কিছু টুকরা নিয়ে তা আক্রান্ত আঙুলের ওপর ৫ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন। এটা প্রতিদিন তিন-চারবার করুন। হাতের পুনরাবৃত্তিমূলক ব্যবহার এড়াতে দুই থেকে চার সপ্তাহ হাতকে বিশ্রাম দেবেন। ট্রিগার আঙুল যথেষ্ট গুরুতর হয়ে গেলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে পারেন। এ ছাড়া আঙুলকে বিশ্রামে রাখা, Splint  ব্যবহার করা, জয়েন্ট মবিলাইজেশন, কানেসিও টেপিং, ব্যথা নিরাময়ের জন্য ইলেকট্রিক মর্ডালিটিস, নিয়মিত থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ করা। মোট কথা উপযুক্ত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পেলে অল্প সময়ে ভালো হওয়া সম্ভব।