আপিল বিভাগের রায় এবং এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের পর কোটা সংস্কার আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, পুলিশ হত্যায় নিশ্চিুপ সুশীলদের আচরণ বৈষম্যমূলক।
আজ শনিবার সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে পাক্ষিক ‘মত ও পথ’ এর আয়োজনে ‘সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সুযোগে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের নাম উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সুশীল সমাজের কতিপয় সদস্য যারা জনগণের জানমালের রক্ষাকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের যারা হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে, সরকারি স্থাপনায় আগুন দিয়েছে তাদের সমালোচনা না করে বরং নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী, অগ্নি সংযোগকারী আন্দোলনকারীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করছেন। এই সহমর্মিতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ, তাদের হীন উদ্দেশ্যকে প্রকাশ করে।
উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃত করে নিজেদের রাজাকার আখ্যায়িত করেছে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের চেতনাবিরোধী তাদের এই স্লোগান সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। তাদের বুঝতে হবে যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী কোনও কার্যকলাপ দেশের মানুষ সহ্য করবে না।
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে তারা ভারতবিরোধী স্লোগান দিয়েছে, যারা বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করেছে, যারা নিজেদের রাজাকার বলে পরিচয় দিয়েছে তারা প্রকৃত অর্থে আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপমান করার চেষ্টা করেছে। তাদের বিচার হওয়া উচিত। যারা মেট্রোরেলের স্টেশন, বিটিভি, ত্রাণ অধিদপ্তর ও সেতু ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আগুন দিয়েছে তারা শুধু রাষ্ট্রের ক্ষতি করেনি তারা নিজেদেরও ক্ষতি করেছে। এই আন্দোলনকে ইস্যু করে সংগঠিত সকল হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ, জ্বালাও পোড়াও সবকিছুর সুস্থ তদন্ত সাপেক্ষে বিচার হওয়া উচিত এবং বর্তমান সরকার তা সঠিকভাবে করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন ‘আমরা একাত্তর’ এর সভাপতি এবং স্বাধীনতা পরবর্তী ডাকসুর প্রথম জিএস মাহবুব জামান, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক সাংবাদিক জাফর ওয়াজেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।