ফিলিস্তিনের মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের একটি স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং একশ জনের বেশি আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুলাই)গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। খবর বিবিসির।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যম দপ্তর সৈয়েদা খাদিজা স্কুলে নিহতের ওই সংখ্যা জানানোর পাশাপাশি এ হামলায় আরও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা হামাসের একটি কমান্ড সেন্টারে আঘাত হেনেছে। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, “গাজার মধ্যাঞ্চলীয় খাদিজা স্কুলের ভেতরে হামাসের একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারে আঘাত হানা হয়েছে।”
স্কুলটি ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ইসরায়েলের। স্কুলটিতে একটি অস্ত্রাগারও ছিল বলে দাবি তাদের। বিবৃতিতে তারা বলেছে, আঘাত হানার আগে ওই এলাকার বেসামরিকদের সতর্ক করা হয়েছিল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, নিহতরা বেসামরিক নাগরিক এবং তাদের বেশিরভাগই শিশু। বিবিসিও একটি ভিডিও যাচাই করেছে যাতে আহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, দেইর আল-বালাহর খাদিজা স্কুলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা আশ্রয়গ্রহণ করেছিলেন। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই হামলার নিন্দা করেছে হামাস। তারা বলছে, ইসরায়েলের এই হামলায় বাস্তুচ্যুত, অসুস্থ ও আহত মানুষ নিহত হয়েছে। তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ইসরায়েলি বোমা হামলা থেকে বাঁচতে মাত্র চারদিনে গাজা উপত্যকার খান ইউনিস শহরে প্রায় দুই লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএ বলেছে, সম্প্রতি খান ইউনিস এলাকায় লড়াইয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গাজায় অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির নতুন ঢেউ শুরু হয়েছে। সোমবার ও বৃহস্পতিবারের মাঝে মধ্য ও পূর্ব খান ইউনিস থেকে এক লাখ ৮২ হাজারের মতো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ ছাড়া আরও হাজার হাজার মানুষ পূর্ব খান ইউনিসে আটকা পড়েছেন।