সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কার করে সর্বোচ্চ আদালতের রায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে বলে মনে করেন প্রগতিশীল যুব সংগঠনগুলোর নেতারা। তবে এই আন্দোলনকে পুঁজি করে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী এবং বিএনপি-জামায়াত-শিবিরসহ কিছু অপশক্তি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতা করেছে বলেও মন্তব্য করেন যুব সংগঠনগুলোর নেতারা। তারা বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে ছাত্র আন্দোলনের বিজয় অর্জিত হয়েছে। তবে সরকার যথাযথ সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় আন্দোলনে যে অনাকাক্সিক্ষত প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তা দুঃখজনক। অবিলম্বে এই ঘটনা তদন্ত করে প্রাণহানির সংখ্যা নিরূপণ করা হোক এবং প্রতিটি মৃত্যুর তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক।’ একই সঙ্গে আহত-নিহতদের সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান নেতারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আন্দোলনকে পুঁজি করে বিভিন্ন সন্ত্রাসী জঙ্গিগোষ্ঠী ও বিএনপি-জামাত-শিবিরসহ যেসব অপশক্তি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতা করছে তা প্রতিহত করতে হবে। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পরিকল্পনা ও ধ্বংসযজ্ঞের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যে প্রাণহানি হয়েছে তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’ জঙ্গিগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করে ’৭২-এর সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে মুক্তিযুদ্ধের আলোকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান নেতারা। এছাড়া যুব নেতারা নাশকতা ও রাষ্ট্রবিরোধী জঙ্গিবাদী ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সভাপতি তৌহিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তাপস দাস, জাতীয় যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সুজন, বাংলাদেশ যুব আন্দোলনের সভাপতি মুশাহিদ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক পল্লব পাল এবং জাতীয় যুব ঐক্যের আহ্বায়ক মিনহাজ উদ্দিন।